মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শিশুর মৃত্যু, তড়িঘড়ি করে পালালেন ডা. কবীর

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-১০-২০২৪ ইং
শিশুর মৃত্যু, তড়িঘড়ি করে পালালেন ডা. কবীর

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারের বিআরএম বেসরকারি হাসপাতালে ভুল অপারেশনে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সুমাইয়া আক্তার চাঁদ মণি (৮) নামের এক শিশুর অ্যাপেনডিসাইটিস অপারেশন করেন ডা. খন্দকার গোলাম মোস্তফা কবীর। অপারেশন টেবিলে শিশুটি ব্যাথায় চিৎকার শুরু করলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। তবে পথে কুষ্টিয়া পৌঁছে চাঁদ মণি মারা যায়। নিহত শিশু চাঁদ মণি সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের আসানন্দপুর গ্রামের হতদরিদ্র আক্তার হোসেনের মেয়ে। এদিকে, ঘটনার পরপরই হাসপাতাল ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান ডা. খন্দকার গোলাম মোস্তফা কবীর। শিশুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তারা হাসপাতালটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
শিশু চাঁদ মনির পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘পেটে ব্যাথা নিয়ে চাঁদ মণিকে সরোজগঞ্জ বাজারের বিআরএম বেসরকারি হাপসাতালে নিলে চিকিৎসক জানান অ্যাপেনডিসাইটিস অপারেশন করতে হবে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ডা. খন্দকার গোলাম মোস্তফা কবীর শিশু চাঁদ মণিকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নেন এবং অস্ত্রোপচার শুরু করেন। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টায়ও অপারেশন শেষ হয়নি। এক পর্যায়ে অপারেশন থিয়েটারের ভেতর থেকে চাঁদ মনি ব্যাথায় চিৎকার শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাঁদ মণিকে রাজশাহী নিতে হবে জানিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়।
চাঁদ মণির খালু মাহাবুব রহমান অভিযোগ করেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সকালে অপারেশন শুরু হয়। অপারেশন চলাকালে চাঁদ মণি ব্যথায় চিৎকার করে। সে বলছিল ‘আমার লাগছে মা, আমাকে বাঁচাও’। এসময় ডা. কবীর শিশুটিকে ধমক দেয়। যা অপারেশন থিয়েটাইরের বাইরে থেকে আমরা সবাই শুনেছি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অ্যাম্বুলেন্স ডেকে জানায় চাঁদ মণিকে রাজশাহী নিতে হবে। এসময় রাজশাহী পাঠানোর কথা বলেই ডা. কবীর সেখান থেকে চলে যায়। তাদের কথামতো আমরা রাজশাহী যাওয়ার পথে কুষ্টিয়া পৌঁছালে চাঁদ মণির মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।’ মাহাবুব রহমান বলেন, ‘ডা. কবীর ভুল অপারেশন করে আমাদের চাঁদ মণিকে মেরে ফেলেছে। আমরা এর বিচার চাই।’
এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের সকল স্টাফরাও পালিয়ে যান। গ্রামবাসী ক্ষোভে হাসপাতালটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তবে হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ুন আহমেদ বলেন, ‘শিশুটির ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা ছিল। স্যালাইন দেওয়ার পরই তার অবস্থার অবনতি হয়। আমরা দ্রুত তাকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে সে মারা যায়।’
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত চাঁদ মণির মরদেহ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা ছিল। আজ ময়নাতদন্তের পর তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক খন্দকার গোলাম মোস্তফা কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী