- প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডিআইজির মণ্ডপ পরিদর্শন
- বাবু খান ও শরীফের নেতৃত্বে ১০৪টি মণ্ডপেই নজরদারি
- বিভিন্ন মন্দির উন্নয়নে ঢেউটিন ও আর্থিক উপহার প্রদান
- মন্দিরের নিরাপত্তায় কাজ করেছে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা
- বিএনপি-জামায়াতের ভূমিকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কৃতজ্ঞতা
চুয়াডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা বিএনপি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। দলটির নেতা-কর্মীরা উৎসবের সময় সব ধরনের অপশক্তি মোকাবিলায় তৎপর ছিলেন, যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহহমুদ হাসান খান বাবু এবং সদস্যসচিব শরীফুজ্জামানের নেতৃত্বে জেলার ১০৪টি পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হয়। উৎসব শুরুর পূর্ব থেকেই বিএনপি ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু ও সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান শরীফ একাধিকবার মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তৎপর ছিলেন।
তাদের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাত-দিন মণ্ডপগুলোর চারপাশে অতন্দ্র প্রহরায় ছিলেন। যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে না পারে। ফলে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব চুয়াডাঙ্গার জন্য স্মরণীয় হয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব গতকাল বির্সজনের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
জেলার দুই সংসদীয় আসনের মন্দিরে নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সহায়তা:
চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন মন্দিরের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নেও বিএনপির নেতারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। স্থানীয়ভাবে ঢেউটিন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে জেলার ১০৪টি মন্দিরের সংস্কার কাজে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দামুড়হুদা উপজেলার ২৮টি ও জীবননগর উপজেলার ২৫টি মন্দিরসহ ৫৩টি মন্দিরে মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং চুয়াডাঙ্গা সদরে ২০টি ও আলমডাঙ্গার ৩১টি মন্দিরসহ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ৫১টি মন্দিরে শরীফুজ্জামান শরীফ এই সহায়তা প্রদান করেন। একইভাবে মন্দিরগুলোকে তাদের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করেছেন। যাতে পূজা উদ্যাপনের সময় কোনো সমস্যা না হয়। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত বিএনপির এই দুই নেতা দলের ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সবগুলো মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় তারা পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তার সঙ্গে দুর্গোৎসবের নিশ্চিয়তা দেন।
প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডিআইজির মণ্ডপ পরিদর্শন:
দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ শুরু থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল দিয়েছে, আর আনসার বাহিনীও তাদের ভূমিকা পালন করেছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক এবং জনসমাগমের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা টহল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বড় ভূমিকা রাখে।
এছাড়াও নবমীতে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক চুয়াডাঙ্গা জেলার গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি পূজা উদ্যাপন পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে ভূমিকা রাখায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সম্প্রীতির বন্ধনে স্মরণীয় উৎসব:
চুয়াডাঙ্গায় এবারের দুর্গোৎসব সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে রয়ে যাবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপির সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পূজা উদ্যাপনের শুরু থেকে দশমী পর্যন্ত বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রসংশা করেন জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতা-কর্মীরা। তারা বলেন, ‘এবারের পূজা আমাদের জন্য সত্যিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সকলের সহায়তায় পুরো উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পেরেছি।’
জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার সিংহ রায় বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় ধর্ম বর্ণ বিভেদ না রেখে বিএনপি, জামায়াতসহ সাধারণ মানুষ যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তারা অপশক্তির বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, তা চুয়াডাঙ্গার পূজারীরা কখনোই ভুলবে না। নেতাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও প্রহরা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারীতে এই উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সকল সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপন করতে পেরেছি।’
চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাকদ কিংকর কুমার দে বলেন, ‘দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের আর ৪টি উৎসবের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসব একটি বৃহৎ উৎসব। সেখানে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের আগমন ঘটে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, রাষ্ট্র সকলের’। চুয়াডাঙ্গার সকল ধর্মের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে পূজা উৎসবকে নিরাপত্তা দিয়েছে, তা আমাদের সম্প্রীতি বন্ধনকে আরোও শক্ত ভীতে দাঁড় করিয়েছে।’
দুর্গোৎসবের সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের তৎপরতা সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির পক্ষপাতী এবং সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদ্যাপন নিশ্চিত করতে তৎপর ছিলাম। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল, যাতে কোনো অপশক্তি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে। এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সম্প্রীতি ও শান্তির পরিবেশে উদ্যাপিত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসী সন্তুষ্ট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গোৎসব সফলভাবে শেষ হয়েছে।’
শরীফুজ্জামান বলেন, ‘দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, বরং এটি আমাদের সকলের সম্প্রীতির উৎসব। আমরা সবসময়ই চেষ্টা করেছি যাতে এই উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে শান্তিতে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করতে পারে। যে কারণে আমাদের নেতা-কর্মীরা কোনো বিরতি ছাড়াই প্রতিটি মণ্ডপে নজরদারি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দল সবসময়ই ধর্মীয় সম্প্রীতির পক্ষে। আমরা চেষ্টা করি আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সকল সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে। এই বছরও আমরা বিভিন্ন মন্দিরে সহায়তা করেছি, যাতে পূজা আয়োজনের কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন