চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে বিনা মূল্যে ছাগল-ভেড়ার পিপিআর টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ও গত পরশু সোমবার পৃথকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিনা মূল্যে ছাগল-ভেড়ার পিপিআর টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মমতাজ মহল। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে উপজেলার উজিরপুর গ্রামের খলিফাপাড়ায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপী, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নাজমুল হাসান শাওন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও খামারিরা।
এসময় প্রাণিসম্পদ অফিসার জানান, দামুড়হুদা উপজেলায় পিপিআর টিকা কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯১টি। এর মধ্যে ছাগল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৪টি ও ভেড়া ২১ হাজার ৩৯৭টি। সারা দেশের ন্যায় পিপিআর টিকা কার্যক্রম ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে।
এদিকে, আলমডাঙ্গায় পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে বিনা মূল্যে পিপিআর রোগের টিকাদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা বেলগাছি রথখোলা পাড়ায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আব্দুল্লাহিল কাফি।
শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে এখন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে গরু, ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন প্রাণির চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সেই সাথে মুরগি ও হাঁসের খামার করতে প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণিদের সহায়তা প্রদান করে থাকে। এক সময় প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে মানুষ পশু হাসপাতাল বলে উপহাস করেছে। এখন সেই প্রাণিসম্পদ বিভাগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করেন।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহে বিনামূল্যে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ছাগল ও ভেড়াকে পিপিআর ও ক্ষুরা রোগের টিকা প্রদান করা হচ্ছে। গত সোমবার সদর উপজেলার কুঠিদূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাজিয়া আক্তার চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএসএম আতিকুজ্জামান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ষষ্টি চন্দ্র রায়, জেলা মৎস্য অফিসার ফরিদুর রেজা, ছাগল উন্নয়ন খামারের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কেএম সাদ্দাম হোসেন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনোজিৎ কুমার মন্ডল।
কুঠিদূর্গাপুর গ্রামের খামারি ছানোয়ার জানান, বর্ষার সময় ছাগলের পিপিআর রোগ বেশি দেখা দেয়। আমরা এই টিকা দিতে গিয়ে গ্রামের ডাক্তারকে প্রতিটা ছাগল বাবদ ৫০-১০০ টাকা দিতে হয়। আবার ডাক্তারকে ডাকলে সময়মতো আসতে চায় না। তবে জেলা থেকে প্রাণিসম্পদের অফিসাররা গ্রামে এসে বিনামূল্যে পিপিআর ও ক্ষুরা রোগের জন্য টিকা দিচ্ছেন। এতে ছাগল পালকরা উপকৃত হবেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএসএম আতিকুজ্জামান বলেন, পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী পিপিআর রোগের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলায় ১১ লাখ ৭৮ হাজার ৩১৫টি ছাগল ও ১১ হাজার ৪ শ ভেড়াকে এই টিকা প্রদান করা হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন