মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ভারতীয় পুরোহিতের কটূক্তি এবং সেই বক্তব্যকে বিজেপির এক নেতার সমর্থন দেওয়ার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে চুয়াডাঙ্গা শহর ও ঝিনাইদহের মহেশপুরে ছাত্রসমাজ, স্থানীয় সংগঠন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ভারতীয় পুরোহিতের কটূক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রসমাজ। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে চুয়াডাঙ্গার শিক্ষার্থীরা বলেন, ভারতে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিকারীর ফাঁসি চাই। আমাদের নবীকে অপমান মেনে নেব না। অতিদ্রুত কটূক্তিকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আজ আমরা প্রতিবাদ করছি, কাল দেশের প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান কটূক্তির প্রতিবাদ করবে। সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আপনারা ক্ষমতায় আছেন, আপনারা এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা প্রকাশ করেননি। ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিবাদ জানাতে হবে। আমরা ছাড় দেব না। তারা বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানানোর ষড়যন্ত্র করছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক বাবু খান, বৈষম্যবিরােধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী সাফফাতুল ইসলাম, অনিমা, আবু বকর সৈকত, আমির হামজা অংকন, সোহানুর রহমান সোহান, সাকিব বিশ্বাস, কাফি, জুবায়ের, আরাফাত, নাফিজ, অপূর্ব, মুশফিক, ফাহিম, প্লাবনসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এদিকে, মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে ওলামা এবং ইমাম পরিষদ। স্থানীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মহেশপুর সরকারি কলেজ স্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহেশপুর কওমি মাদ্রাসার সহসভাপতি নাজির আহমেদ, উপজেলা ইমাম পরিষরে সভাপতি মুফতি রফিকুল ইসলাম ও ওলামা পরিষদ মহেশপুর শাখার সেক্রেটারি সরোয়ার হোসেন বক্তব্য দেন। সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিশে^র মুসলমানদের কলিজার টুকরো রাসূল পাক (সা.)-এঁর কোনো অপমান আমরা বরদাস্ত করব না। বক্তারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করায় আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে ভারতীয় পুরোহিতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমীকরণ প্রতিবেদন