দামুডহুদার কার্পাসডাঙ্গা অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারে এক বিরল ঘটনা ঘটেছে। যেখানে মাথার খুলিবিহীন (স্কাল) একটি শিশুর জন্ম হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল চারটার দিকে ডা. হাসানুজ্জামান নূপুরের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটি ভূমিষ্ট হয়। তবে অপারেশনের পর দেখা যায়, শিশুটির মাথার খুলির অংশ নেই।
জানা গেছে, উপজেলার কুনিয়া গ্রামের এখলাস উদ্দীনের স্ত্রী আরজিনা খাতুন প্রসব বেদনা অনুভব করলে গতকাল সকাল ১০টার দিকে তাকে কার্পাসডাঙ্গা অ্যাপোলো ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল চারটায় শিশুটি ভূমিষ্ট হয়। শিশুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ক্লিনিকটির পরিচালক শাওন জানান, শিশুটি বর্তমানে জীবিত আছে। এ অস্বাভাবিক শিশুর জন্মের খবরে এলাকার মানুষ ক্লিনিকে ভিড় জমাচ্ছেন শিশুটিকে একনজর দেখতে।
শিশুটির পিতা এখলাস উদ্দীন বলেন, ‘আমরা জানতাম না যে আমাদের সন্তান এমন কোনো সমস্যায় আক্রান্ত হবে। শিশুটির জন্য আমরা খুবই চিন্তিত। চিকিৎসকরা বলছেন, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখছি এবং তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. হাসানুজ্জামান নূপুর বলেন, ‘শিশুটির মাথায় খুলির অংশ (স্কাল) না থাকার বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘এনেনসেফালি’ নামে পরিচিত। এটি একটি জন্মগত ত্রুটি, যা সাধারণত মায়ের গর্ভাবস্থায় কোনো সমস্যার কারণে হতে পারে। এনেনসেফালি আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই বাঁচতে পারে না বা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়। যদিও শিশুটি বর্তমানে জীবিত রয়েছে, তবে তার ভবিষ্যত অত্যন্ত অনিশ্চিত। আমরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং পরিবারের সাথে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছি।’
সমীকরণ প্রতিবেদন