মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মাথাভাঙ্গা নদীতে বাড়ছে পানি, নেই বন্যার শঙ্কা

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৮-২০২৪ ইং
মাথাভাঙ্গা নদীতে বাড়ছে পানি, নেই বন্যার শঙ্কা

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা শহরের বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় ও সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নিচু এলাকায় যারা বসবাস করেন, তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে শহরের শান্তিপাড়ার নিচের এলাকার একটি সড়ক সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। সড়ক সংলগ্ন কয়েকটি বাড়িতে যাওয়া আসা করতে হাঁটু সমান পানি মাড়াতে হচ্ছে। এতে এলাকাবাসী, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা চলাচলে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে প্রতিদিনের কাজকর্মে বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে। তাদেরকে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। এদিকে, টানা বৃষ্টির ফলে মাথাভাঙ্গা নদীর পানির উচ্চতাও বেড়েছে, নিচু এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নিচু এলাকার পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে শহরের খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা বিপাকে পড়েছেন। কারণ বৃষ্টির ফলে যাত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং ভাড়া কম হওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির আশায় অপেক্ষা করছেন।

শান্তিপাড়ার বাসিন্দা মণ্টু মিয়া বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে বাড়ি থেকে পাড়ার মোড় হয়ে মূল শহরে যাওয়ার রাস্তাটি সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। ছোট বাঁচ্চাদের স্কুলে নয়ার জন্য ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে দূরত্ব বাড়ছে। প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। একই এলাকার স্কুল শিক্ষক উজ্জল বলেন, প্রতিদিনের কাজকর্ম করতে পারছি না। বৃষ্টির পানি ঘরের সামনে জমে আছে, বের হওয়া মুশকিল হয়ে গেছে। মেয়েরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। কেউ পড়তেও বাসতে পারছে না। প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

``

চুয়াডাঙ্গা শহরের রিকশা চালক হান্নান মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তায় মানুষ কমে গেছে। ১০-১১ দিন ধরে বৃষ্টির কারণে তেমন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। যা আয় করছি, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ইজিবাইক চালক সাগর হোসেন বলেন, ভাড়া এমনিতেই কম, তার ওপর যাত্রীও কম। সারা দিন ইজিবাইক চালিয়ে যা পাই, তাতে তেল কেনার টাকাই ওঠে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পরিবার কীভাবে চলবে, বুঝতে পারছি না।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় মোট ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ বুধবার থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। এসময় আকাশে মেঘ থাকলেও সূর্যের দেখা পাওয়া যাবে।

চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহম্মেদ বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মাথাভাঙ্গা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। শহরের কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, মাথাভাঙ্গা নদীর হাটবোয়ালিয়া পয়েন্টে গতকাল মঙ্গলবার পানির উচ্চতা ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাধারণত পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে মাথাভাঙ্গা নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। তবে এখন পর্যন্ত পদ্মা নদীর পানি মাথাভাঙ্গা নদীতে প্রবেশ করেনি। পদ্মা নদীর পানি মাথাভাঙ্গায় প্রবেশ করলে পানির উচ্চতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী