মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

স্কুলের মাঠ কংক্রিট ব্লকের দখলে

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৮-২০২৪ ইং
স্কুলের মাঠ কংক্রিট ব্লকের দখলে

স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘ চার বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে কংক্রিট ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। দামুড়হুদা উপজেলার রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কংক্রিট ব্লক তৈরি ও স্তুপ করায় দৈনন্দিন খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত রয়েছে গ্রামের শিশু-কিশোরসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রঘুনাথপুর গ্রামবাসী জানান, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরের ভাই আরিফুল ইসলাম আরিফ খেলার মাঠে কংক্রিট ব্লক তৈরি করছেন। তিনি ব্লক তৈরির জন্য মাঠে মেশিনও স্থাপন করেছেন। সরেজমিন দেখা যায়, রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটির বেশিরভাগ অংশই কংক্রিট ব্লক ও ব্লক তৈরির কাঁচামাল পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী দ্বারা পূর্ণ হয়ে রয়েছে। মাঠটিতে সারাদিনে স্কুল চলাকালীন সময় ছাড়া শিশু-কিশোররা অবস্থান করে না। শিশু-কিশোররা মাঠে খেলা করতে না পারলেও কংক্রিট ব্লক তৈরি চলতেই থাকে। ট্রাকে ভর্তি পাথর, কংক্রিট মিকসার মেশিন খেলার মাঠটির স্থায়ী আবাসস্থল হয়ে উঠেছে।

রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যনেজিং কমিটি সূত্রে জানায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ঠ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক মাঠে ব্লক তৈরির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, গ্রামে প্রভাব থাকায় কেউ এ বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু এখন অনেকে মাঠে ব্লক তৈরি বন্ধ করে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার সুযোগ কারার দাবি জানাচ্ছেন। তারা বলেন, ছাত্র-জনতা স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়েছে। এমপি-মন্ত্রীরাও পালিয়েছে। এখান কারো প্রভাব চলবে না। আমাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য মাঠটি খেলার উপযুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তার ম্যানেজার জনির কাছে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি কথা বলে জানাবে বলেন। এবং নিউজ করার দরকার নেই বলেন।

রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেরিনা খাতুন বলেন, আমরা বারবার শিক্ষা অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। স্যাররা মাঠটি দেখেছেন তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেননি। আমরা সবসময় ভয়ে ভয়ে চাকরি করেছি। যদি বেশি চাপ দিই, তাহলে হয়ত আমাদের এখানে চাকরিই কঠির।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হাসান বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে পূর্বে জানতাম না, আপনার কাছে শুনলাম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। কিন্তু আমারা লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি।’
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোকসানা মিতা বলেন, আপনারা স্থানীয়ভাবে ওগুলো সরিয়ে ফেলতে পারেন। তা না হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী