চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার পিরোজখালি ও খেজুরা গ্রামে ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। দুটি মামলায় পদ্মবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আলম আলীসহ ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে ৮০-১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে সদর উপজেলার খেজুরা গ্রামের মাহতাব উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও পিরোজখালি গ্রামের মৃত মুছাব আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দুটি করেন।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরের দিন ৬ আগস্ট ছাত্র-জনতার নের্তৃত্বে মোটরসাইকেল, পাখিভ্যান ও ইজিবাইক নিয়ে খেজুরা ও পিরোজখালিতে দুটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। এই শোভাযাত্রা দুটি ওই দিন বিকেল চারটায় গোপীনাথপুর গ্রামে আলম চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে পৌঁছালে তার নের্তৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হয়। এলোপাতাড়ি হামলায় শোভাযাত্রা ভন্ডুল হয়ে যায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, হাত কুড়াল ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়। চেয়ারম্যান আলম সে সময় তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় উপস্থিত ছাত্র-জনতা তাদের কছে থাকা বেশ কিছু মোটরসাইকেল রেখে আশপাশে পালিয়ে গিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করেন। পরে হামলাকারীরা ওই মোটরসাইকেলগুলো ভেঙ্গে ও পুড়িয়ে দেয়। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, সদর উপজেলার খেজুরা গ্রামের মাহতাব উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও পিরোজখালি গ্রামের মৃত মুছাব আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় দুটি পৃথক মামলা করেছেন। ওই মামলা দুটির বিষয়ে সদর থানার পুলিশ আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন