ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চলেছে। তবে দলটির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকার গঠনের মতো ২৯০টি আসনে জয়ের পথে রয়েছে। অন্য দিকে বিরোধী কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট বুথফেরত সমীক্ষাকে ভুল প্রমাণ করে ২৩৫টির মতো আসনে জয় পেয়েছে অথবা এগিয়ে রয়েছে। এনডিএ জোটের মধ্যে শরিক দলে ভাঙন না হলে বিরোধী জোটের সরকার গঠনে আপাত দৃষ্টিতে কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এবারের লোকসভা নির্বাচনের বিস্ময়কর দু’টি দিকের একটি হলো উত্তরপ্রদেশে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের কাছে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো আর অন্যটি হলো পশ্চিমবঙ্গে সব বুথফেরত সমীক্ষার ফলের বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেসের ৩০টি আসনে জয় পাওয়া। এর মাধ্যমে বিরোধী রাজনীতিতে তৃণমূলের মমতা ব্যানার্জি ও সমাজবাদী দলের অখিলেশ যাদব অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে স্থান করে নিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট ৪৩৪টি আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। ৮৯টি আসনে জিতেছে কংগ্রেস। অন্য দলগুলোর মধ্যে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ৩২টি, তৃণমূল কংগ্রেস ২২টি, জনতা দল (জেডি-ইউ) ১১টি, ডিএমকে ৮টি, তেলেগু দেশম পাটি (টিডিপি) ৮টি, শিবসেনা (উদ্ভব) ৬টি, শিবসেনা (এসএইচএস) ৬টি, লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাশ) ৪টি, সিপিআইএম ৪টি আসনে জয় পেয়েছে। আম আদমি পার্টি, ওয়াইএসআরসিপি ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ৩টি করে আসন পেয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআইএম), ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি), ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ, রাষ্ট্রীয় লোকদল, এনসিপিএসপি ২টি করে আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্রপ্রার্থী হেসেবে জয় পেয়েছেন ৬ জন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে এনডিটিভি, রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে ও আনন্দবাজার।
তথ্যানুসারে, বিজেপি ২৯২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ২৩২টি আসনে। অন্যরা এগিয়ে আছেন ১৯ আসনে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে এটি নিশ্চিত যে, বিজেপি এককভাবে সরকার গঠন করতে পারছে না। লোকসভার মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে সরকার গড়তে প্রয়োজন ২৭২টি আসন। বিজেপি যেসব আসনে এগিয়ে রয়েছে, সেগুলোতে জয় ধরলেও আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ২৪০টি। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ৩০৩টি আসনে জয় পেয়েছিল। সেবার বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ ৩৫২টি আসনে জয় পায়। এবার জোটের আসন ২৯০ এর আশপাশে থাকতে পারে। সরকার গঠনের জন্য বিজেপিকে এনডিএ জোটের শরিকদের প্রধান অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম ও বিহারে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডি-ইউ) ওপর নির্ভর করতে হবে। এই দুই দল ছাড়া আরো একাধিক এনডিএ শরিকের ওপরে নির্ভর করতে হবে বিজেপিকে।
বারানসিতে জিতলেন মোদি :
উত্তরপ্রদেশের মন্দিরের শহর বলে পরিচিত বারানসিতে জয়ী হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিকটতম প্রার্থী কংগ্রেস নেতা অজয় রায়কে দেড় লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে এই একটি আসন থেকেই প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বারানসিতে ছয় লাখ ১২ হাজার ৯৭০ ভোট পেয়েছেন মোদি, যা ওই আসনের মোট ভোটের ৫৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। বারানসিতে অবশ্য ১৯৯১ সাল থেকে জয় পেয়ে আসছে বিজেপি। মাঝে ২০০৪ সালে প্রথা ভেঙে সেখানে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। তারপর ২০০৯ সাল থেকে ফের সেই আসন গেছে বিজেপির দখলে। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাট থেকে উঠে আসা নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত নিজ রাজ্যে নির্বাচনী প্রার্থী হতেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বারানসিতে প্রার্থী হন তিনি এবং জয়ী হন। পরে ২০১৯ সালের নির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয় পান তিনি। এবার তৃতীয়বারের মতো এই আসনে জিতলেন তিনি।
৪ লাখ ভোটে জিতলেন রাহুল :
ভোটগণনার সাত ঘণ্টা যেতে না যেতেই নিশ্চিত হয়ে গেছে, উত্তরপ্রদেশের রায় বরেলি আসনে জয়ী হয়েছেন রাহুল গান্ধী। সেটিও রেকর্ড গড়া ব্যবধানে। ওই আসনে নিকটতম প্রার্থীর চেয়ে চার লাখের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন এ কংগ্রেস নেতা। রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধী রায় বরেলি আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। এবার সেই আসনে নির্বাচন করেন তার ছেলে রাহুল গান্ধী। ২০১৯ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীকে যে ব্যবধানে হারিয়েছিলেন সোনিয়া, এবার সেই ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করেছেন রাহুল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, রায় বরেলি আসনে রাহুল ছয় লাখ ৭০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী দিনেশ প্রতাপ সিংয়ের চেয়ে তিনি প্রায় চার লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন। কংগ্রেসের দুর্গ বলে পরিচিত রায় বরেলি আসনে ২০১৯ সালের নির্বাচনে সোনিয়া গান্ধীর কাছে এক লাখ ৬৭ হাজার ভোটে হেরেছিলেন দিনেশ। ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে নির্বাচনে রাহুল গান্ধীর কাছে হার স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপির এ নেতা। সোশ্যাল মিডিয়ার এক পোস্টে তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, দলীয় নেতাকর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও সিদ্ধান্তটি তাদের হাতে ছিল না।
পশ্চিমবঙ্গে বড় ব্যবধানে এগিয়ে তৃণমূল :
বুথফেরত জরিপগুলো ভুল প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনের সময় রাজ্যজুড়ে যেভাবে গেরুয়া ঝড় ওঠার ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছিল বিভিন্ন মহল থেকে, ভোট গণনায় তার ছাপ মিলছে না। বরং আগের চেয়েও ভালো ফলাফল করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে, রাজ্যের ৪২টি সংসদীয় আসনের ৩০টিতেই জিততে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস, ১১টিতে বিজেপি এবং একটিতে কংগ্রেস। ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে চূড়ান্ত দফার ভোট শেষ হওয়ার পরপরই ভারতের বেশির ভাগ গণমাধ্যমের সমীক্ষায় জানানো হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেতে পারে ১৩ থেকে ১৭টি আসন, আর বিজেপি পাবে ২৩ থেকে ২৭টি আসন। বামফ্রন্ট ও জাতীয় কংগ্রেস জোট জয় পেতে পারে একটি থেকে তিনটি আসন। কিন্তু সব জরিপ ভুল প্রমাণ করতে চলেছে মঙ্গলবারের ভোটগণনা। গণনার শুরু থেকে প্রায় সব কেন্দ্রেই তৃণমূল কংগ্রেসের ঝড় দেখা যাচ্ছে।
হেরে গেলেন কাশ্মিরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী :
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এবার চমক দেখা যাচ্ছে। এই চমক থেকে বাদ যায়নি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরও। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শেখ আবদুল রশিদের কাছে হেরে গেছেন। যিনি নিরাপত্তা আইনে জেলে বন্দী রয়েছেন। রাজ্যটির বারামুল্লাহ আসনে তারা নির্বাচন করেন। তিনি ছাড়াও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও এবারের নির্বাচনে হেরে গেছেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করার আগেই কাশ্মিরের বারামুল্লাহতে পরাজয় মেনে নেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। ওমরের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া শেখ আবদুল রশিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির কারাগারে বন্দী আছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কাশ্মিরের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সহায়তা করেন। তবে ইঞ্জিনিয়ার রশিদ হিসেবে পরিচিত শেখ আবদুল রশিদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জেলে বন্দী থাকায় বারামুল্লাহতে তার হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন তার দুই ছেলে।
শেখ আবদুল রশিদের কাছে পরাজয় মেনে নিয়ে ওমর আবদুল্লাহ এক্সে একটি পোস্ট করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘যা হতে যাচ্ছে, আমি মনে করি সেটি মেনে নেয়ার এখনই সময়। উত্তর কাশ্মিরে জয় পাওয়ায় ইঞ্জিনিয়ার রশিদকে অভিনন্দন। আমি মনে করি না এই জয়ের মাধ্যমে জেল থেকে তার মুক্তি ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া উত্তর কাশ্মিরের জনগণও যাকে প্রতিনিধি হিসেবে যাবে বেছে নিয়েছে, তাকে পাবে। কিন্তু ভোটাররা তাদের মতামত দিয়েছে। আর গণতন্ত্রে এটিই বড় বিষয়।’ অন্য দিকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মেহবুবা মুফতিও অনন্তনাগ-রাজৌরি আসনে মিয়া আলতাফের কাছে পরাজয় মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের সব জায়গায় প্রার্থী দিলেও বিরোধপূর্ণ জম্মু ও কাশ্মিরে কোনো প্রার্থীকে দাঁড় করায়নি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।
উত্তরপ্রদেশে ফিকে যোগী-মোদি ম্যাজিক :
ভারতের লোসকভা নির্বাচনের ফলাফলে অন্যতম নির্ধারক হিসেবে কাজ করে থাকে উত্তরপ্রদেশ। দেশটির একটি কথা প্রবাদের মতো প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ যার দিল্লি তার। মঙ্গলবার ৮টা থেকে ভোটগণনার শুরু থেকেই বিজেপি এবং ইন্ডিয়া জোটের টান টান লড়াই চোখ পড়েছে। ৮০ আসনের উত্তরপ্রদেশে ৪৩ আসনে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। আর বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৩৬টি আসনে। এছাড়া কংগ্রেস ছয়টি ও রাষ্ট্রীয় লোকদল দু’টি আসনে এগিয়ে আছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা ভারতের নজর ভোটগণনার দিকে। এখন পর্যন্ত যা ট্রেন্ড, তাতে দেখা গেছে, নরেন্দ্র মোদির বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকে দুরন্ত চ্যালেঞ্জ দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। তবে সবচেয়ে বেশি চমক দেখা গেছে উত্তরপ্রদেশে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৮০ আসনের মধ্যে ৬২টি আসনই পেয়েছিল এনডিএ। কিন্তু এবারের অঙ্ক একেবারে বিপরীতে। দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোট এগিয়ে আছে ৪৩ আসনে। এনডিএ সেখানে এগিয়ে রয়েছে ৩৬টিতে। অন্যান্য ১। যদিও এই ফলাফল প্রাথমিক। এখন পর্যন্ত যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তাতে সত্যিই বড় চমক রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে তা যে বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
ইন্ডিয়া জোট সরকার গঠন করতে পারবে? :
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিরোধীরা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেতে যাচ্ছে। বেশির ভাগ বুথফেরত জরিপে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বড় বিজয়ের পূর্বাভাস থাকলেও ভোটগণনায় বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট ২৩২ আসনে এগিয়ে রয়েছে। ভারতের মুম্বাইয়েও জোটটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ দিকে বিপাকে পড়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। এ রকম পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোট সরকার গঠন করতে পারবে কি না, সেই বিষয়টিও সামনে আসছে। এনডিএ জোটের দুই প্রধান শরিক জেডিইউ ও টিডিপি পক্ষ পরিবর্তন করলেই কেবল বিরোধী জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অযোধ্যাতেই পিছিয়ে বিজেপি প্রার্থী :
খোদ অযোধ্যাতেই পিছিয়ে পড়ল বিজেপি। রামমন্দিরের শহর সেটিই দেখল। যে রামমন্দিরের প্রশ্নে বিজেপির এত উত্থান সেই রামমন্দিরের শহরেই বিজেপির শোচনীয় অবস্থা। সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীর থেকে অনেকটা পেছনে বিজেপির প্রার্থী। সপা প্রার্থী অবধেশ প্রসাদ এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী লাল্লু সিংহের থেকে। ১০ হাজারেরও বেশি ভোটে বিজেপি প্রার্থীকে পেছনে ফেলেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী। চলতি বছরেরই জানুয়ারি মাসে অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধন করেছেন খোদ নরেন্দ্র মোদি। সেই অযোধ্যা ফৈজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সেখানেই বিজেপি পিছিয়ে থাকার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৯ সালে রামমন্দির ইস্যু ছিল বিজেপির। অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির আশ্বাস দিয়েছিল পদ্মশিবির। সেই আশ্বাস রেখেই ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রামমন্দির উদ্বোধন হয়। বিজেপি সারা ভারতেই এই ইস্যু নিয়ে প্রবল প্রচার করেছে। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বারবার রামমন্দির প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন খোদ নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু সেই অযোধ্যার ঘাঁটিতেই পিছিয়ে পড়ল বিজেপি।
আমেথিতে ধরাশায়ী স্মৃতি ইরানি :
উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেসের পারিবারিক আসন খ্যাত আমেথিতে বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানির চেয়ে ৫০ হাজার ভোটে এগিয়ে আছে কংগ্রেসের পুরনো সৈনিক কিশোরী লাল শর্মা। ইন্ডিয়া টুডের সর্বশেষ লাইভ আপডেট অনুযায়ী, স্মৃতি ইরানি পেয়েছেন এক লাখ ১৯ হাজার ৬৯ ভোট। কিশোরী লাল শর্মা পেয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৮২৭ ভোট। কিশোরী লাল এগিয়ে থাকায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
সমীকরণ প্রতিবেদন