মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

লিবিয়ায় নিয়ে চার যুবককে জিম্মি করে কোটি টাকা আদায়

  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০৫-২০২৪ ইং
লিবিয়ায় নিয়ে চার যুবককে জিম্মি করে কোটি টাকা আদায়

আলমডাঙ্গার জোড়গাছা গ্রামের আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ৪ যুবককে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আটকে রাখা ও বিভিন্ন দফায় প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী চার যুবকের পরিবারের সদস্যরা দালাল আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জনপ্রতি ১৩ লাখ টাকায় প্রায় ৬ মাস আগে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই চার যুবককে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয়েছে। ইতালি পৌঁছাতে কয়েক দফায় প্রায় চার পরিবারের থেকে এক কোটি টাকা হাতিয়েও নিয়েছে আলমগীর। গতকাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারে সদস্য মতিয়ার রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, জোড়গাছা গ্রামের আদম দালাল আলমগীর হোসেন ওই গ্রামের ৪ যুবককে ইতালি নিয়ে যাবার আশ্বাস দেন। ইতালি যেতে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে আলমগীরকে দেয় একই গ্রামের আমদ আলীর ছেলে আতিয়ার রহমান (৫০), মজিবর রহমানের ছেলে তুষার (২২), বাবলুর রহমানের ছেলে হাসান (২৩) ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আজিজুল ইসলাম রঞ্জু (২৫)। গত বছর নভেম্বর মাসের ২৫ তারিখ চুক্তি মতে পানি পথে ইতালি যেতে আলমগীরকে টাকা দেয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, একই দিন সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে কাজের আশায় আদম দালাল আলমগীরের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালির যাবার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা দেয় আতিয়ার, তুষার, হাসান ও রঞ্জু। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর বিপদে পড়ে তারা। আলমগীর তাদের ইতালি নিয়ে যাবার জন্য আরো ১৩ লাখ টাকা দাবি করে। স্বজনরা কোনো উপায় না দেখে লিবিয়া প্রবাসী আলমগীর হোসেনের দেশে অবস্থানরত স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের মাধ্যমে আরও ১১ লাখ টাকা করে ৪৪ লাখ টাকা পাঠায়। টাকা নিয়েও ৬ মাস তাঁদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে। ইতালিতে না পাঠিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের নিকট আবারও ১৮ লাখ টাকা দাবি করেন আলমগীর। দাবিকৃত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগী অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর নির্যাতন শুরু করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাদের ক্ষতি হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্তির জন্য আবারো প্রত্যেকের কাছে ১৩ লাখ টাকার দাবি করে আলমগীর।

গত ১৯ শে মে ইসলামি ব্যাংকের শাখায় ভুক্তভোগী পরিবার বসতবাড়ির জমি বিক্রি করে ও ব্যাংক লোন নিয়ে আতিয়ার রহমানের পক্ষ থেকে আরও ৬ লাখ টাকা জিম্মিকারীদের নিকট টাকা পাঠান। দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে নিলেও চারজনকেই ইতালিতে পৌঁছে না দিয়ে বন্দি রেখেছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এতে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে গত ১১ মে আলমডাঙ্গা থানায় ভুক্তভোগী পরিবার আলমগীর, তাঁর স্ত্রী ও মা-বাবার নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গতকাল ভুক্তভোগী যুবকদের স্বজনরা ছেলেসহ ভাই-ভাতিজাদের উদ্ধারের জন্য আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মতিয়ার রহমান, নজরুল ইসলাম, মজিবর রহমান ও বাবলু রহমানসহ পরিবারের অনান্য সদস্যরা।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী