মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মহেশপুরের দত্তনগর খামারের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাটি ‘চুরির’ অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৫-২০২৪ ইং
মহেশপুরের দত্তনগর খামারের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাটি ‘চুরির’ অভিযোগ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম শস্য বীজ উৎপাদন খামার দত্তনগর কৃষি ফার্ম। এশিয়ার বৃহত্তম এই বীজ উৎপাদন খামারটি নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে জর্জরিত। ভুয়া বিল ভাউচার, হাইব্রিড বীজ প্রেরণে অনিয়ম, শ্রমিকের টাকা আত্মসাৎ, নারী নির্যাতনসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় সময় থাকে আলোচনায়। এবার অভিযোগ উঠেছে, দত্তনগর খামারের অতিরিক্ত দায়িত্বরত যুগ্ম পরিচালক কামরুজ্জামান শাহিন ও ডিডি জাহিদ ফার্মের মাটি চুরি করে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
জানা গেছে, এই দুই কর্মকর্তা মিলে খামারের মাটি ভেকু দিয়ে কেটে ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন। তবে গতকাল বুধবার সকালে গোকুলনগর খামারের অভ্যন্তরে ভেকু দিয়ে কেটে ট্রাক্টরে মাটি ভর্তি করার সময় জনতার বাঁধার মুখে তা বন্ধ করেন। জানা গেছে, কামরুজ্জামান শাহিনের বাড়ি মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামে। পাঁচটি বীজ উৎপাদন খামারের মধ্যে একটি খামার কুশাডাঙ্গা বীজ উৎপাদন খামার। খামারের ভেতরে বাড়ি হওয়ায় তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না। নিজের খেয়াল খুশি মতো খামার পরিচালনা করেন।
গোকুলনগর গ্রামের হামিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, কামরুজ্জামান শাহিন এখানে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়েছেন। তিনি সরকারি মাটি চুরি করে বিক্রি করছিলেন। প্রায় ১২০ গাড়ি ১৮০০ টাকা করে দরে বিক্রি করেছেন। একপর্যায় এলাকার মানুষ বাঁধা দিলে তিনি হুমকি-ধমকি দেন। পরে জনতার বাঁধার মুখে তিনি বন্ধ করেন মাটি বিক্রি।
স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘উনি খামারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খামারগুলোতে রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। ওনার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে থাকেন। স্থানীয় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খামারের একজন উপ-পরিচালক বলেন, তার কাছে সকল অনিয়মই নিয়ম। ওনার গাড়িতে প্রতি সপ্তাহে ৫০ লিটার তেল দিতে হবে, এটাই নিয়ম বানিয়েছেন। ইচ্ছা মতো শ্রমিক ছাঁটাই করেন। শ্রমিকদের হাজিরা কর্তন করেন। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে থাকেন। শুধু হয়রানি নয়, চরমভাবে অপমান-অপদস্ত করেন। এসব অপকর্মের সহযোগিতা করেন গোকুলনগর খামারের উপ-পরিচালক জাহিদুর রহমান। তিনি শ্রমিকদের হাজিরা নিজের ইচ্ছা মতো ভুয়া মাস্টার রোলে তৈরি করতে উপ-পরিচালকদের বাধ্য করেন এবং নিজে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে খামার পাড়ায়।
শতভাগ শ্রমিকের হাজিরা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এখনো বাস্তবায়ন হতে দেননি বলে জনশ্রুতি আছে। জানা গেছে, যুগ্ম পরিচালক কামরুজ্জামান শাহিনকে বদলি করা হয় একটি পরিপত্রে এবং দত্তনগর খামারের যুগ্ম পরিচালক হিসেবে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় যশোর সারে দায়িত্বপ্রাপ্ত রোকনুজ্জামানকে। তবে অদৃশ্য শক্তির বলে তিনি রোকনুজ্জামানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।
যুগ্ম পরিচালক রোকনুজ্জামান এ প্রতিবেদনকে জানান, তিনি দায়িত্ব নিতে গিয়েছিলেন। তবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি এখনো পর্যন্ত দত্তনগর খামারের যুগ্ম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব আছেন। উনাকে নতুন করে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুগ্ম পরিচালক কামরুজ্জা শাহিন বলেন, ‘মাটি বিক্রি করিনি। আমার নিজ প্রয়োজনে কিছু মাটি নিয়েছি।’ এ বিষয়ে জিএম (সীড) দেবদাস শাহা বলেন, ‘আপনার কাছে বিষয়টি শুনলাম। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী