মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা

  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০৪-২০২৪ ইং
আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা

দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রথমে আচরণবিধি প্রতিপালন বিষয়ক সভা ও পরে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক ইয়াসিন সোহেল। প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন এস এ এম জাকারিয়া আলম, এস কে লিটন, হাফিজুর রহমান, মো. আবু তালেব, আয়েশা সুলতানা লাকী প্রমুখ।

জীবননগর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী এস কে লিটন অভিযোগ তুলে বলেন, আমি নির্বাচনে আসার পর প্রত্যেকটি পাড়া-মহল্লায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে তাদের বাইরে যাওয়া যাবে না। দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে। আসলেই কি এই নির্বাচন দলীয়ভাবে হচ্ছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে তারা এবং বলছে তাদের পক্ষে যদি কাজ না করে, তাহলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে। ভোটের পরে দেখে নেয়া হবে। কারা আমার পক্ষে কাজ করছে তাদের তালিকা করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে পেশীশক্তি খাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার পক্ষে যারা কাজ করছে, তাদেরকে মারধরের ও মামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। কর্মীদের স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষে বলা হচ্ছে, তার পছন্দের প্রার্থীদের জন্য কাজ করার জন্য। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন একটি সুষ্ঠ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে দলীয় কোনো প্রতীক নেই। এই অবস্থাতেই এই ধরনের চেষ্টা ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করছে। সরকারের যে উদ্যোগ উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে, এ ধরনের কাজে সাধারণ মানুষ বিমুখ হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

``

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেকের কাছে শোনা যাচ্ছে, এই নির্বাচন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাহলে তার অন্যতম কারণ হবে প্রিসাইডিং অফিসার। কারণ কিছু প্রিসাইডিং অফিসার আছে একেবারে লিস্ট করা। তারা নির্বাচনে অনিয়মের সাথে জড়িত। বিনয়ের সাথে বলছি, জীবননগরের কিছু প্রিসাইডিং অফিসার আছে, তারা যদি দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

প্রার্থী এস এ এম জাকারিয়া আলম বলেন, ‘আমরা দামুড়হুদায় যে তিনজন প্রার্থী আছি, তার মধ্যে একজন স্থানীয় সংসদ সদস্যের আপন ভাই। স্বাভাবিকভাবেই ওখানে সবাই আশঙ্কা করছে, স্থানীয় প্রশাসনসহ যারা সরকারি কাজে নিয়োজিত আছেন, তাকে সহযোগিতা করতে পারেন। আমরা চাই একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেকটা প্রার্থী সমান সুযোগ পাবো কি না। বা আমাদের ওখানে নিরপেক্ষ আচরণ করা হবে কি না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে চলবেন কি না।’ এসময় তিনি বিষয়গুলো নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রশ্নের উত্তরে জেলা নির্বাচন অফিসার এবং রিটার্নিং অফিসার মোতাওয়াক্কেল রহমান বলেন, ‘যেকোনো বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে আপনারা প্রমাণসহ অভিযোগ দিবেন। আমি রিটার্নিং অফিসার হিসেবে এতোটুকু বলতে পারি, এ বিষয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। আমরা একটি সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেব। ভয়-ভীতির বিষয়ে যেটি বলছেন, আপনারা হয়ত জানেন মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। নিয়ম-নীতি, বিধি-বিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোথাও অনিয়ম হয়, আমার সর্বোচ্চ ক্ষমতা সেখানে প্রয়োগ হবে।’

``

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকের এজেন্ট কেন্দ্রে অনেক দায়িত্ব পালন করবে। তথ্য-প্রমাণসহ দিতে পারলে সেই কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে। আপনারা প্রিসাইডিং অফিসারের কথা বলেছেন, কিন্তু এটা সম্পূর্ণ রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিচ্ছে। এবং তারা সকলেই সরকারি কর্মকর্তা। আমার তো মনে হয় না, তারা স্বউদ্যোগে কিছু করবেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, যেই অনিয়ম করবেন, তার বিরুদ্ধে সাথে সাথে আমরা অ্যাকশনে যাব। এর জন্য নীতিমালা আছে। নীতিমালার বাইরে কোনো প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করব না।’

সভায় পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, ‘জেলা পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আমি এবং আমার টিম রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা তথা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সুন্দরভাবে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যে নির্দেশনা আছে, সেই নির্দেশনার কোনো ধরনের ব্যত্যয় হবে না। যিনি ব্যতয় করবেন, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, কে কোথায় আছেন, এগুলো আমরা গণ্য করব না। সেটা আপনারা আমাদের কার্যক্রমে প্রমাণ পেয়েছেন। আমরা আপনাদের এলাকায় এসেছি, সামান্য সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করতে। আমরা এমন কোনো আচরণ আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করব না, যে আপনাদের সাথে আমাদের সম্পর্কের অবনতি হবে। অথবা আমাদের তরফ থেকেও এমন কোনো আচরণ আমরা করতে চাই না, যাতে আমার দায়িত্ব পালন শেষ হয়ে গেল, কখনো মনে হলো চুয়াডাঙ্গায় বেড়াতে, কিন্তু আপনি আমাকে দেখে খারাপ কিছু বলবেন, আমরা সেটা চাই না। দুইজন চ্যাম্পিয়ন হয় না। আপনি হারেন বা জিতেন, আপনারা একে অপরের প্রতিবেশী। মেনে নেওয়ার মন-মানসিকতা রাখতে হবে। আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই, যিনি অপরাধ করবেন, আইনের ব্যত্যয় ঘটাবেন, তাকে আমরা তাৎক্ষণিক আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

``

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, ‘অনেক সময় আমরা দেখেছি, যে স্থান থেকে ফোন দেয়া হচ্ছে, যেখান থেকে অভিযোগটি আসছে, সেখানে গিয়ে দেখা যাচ্ছে এমন কোনো ঘটনার অস্তিত্ব নেই। আমরা বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি, সকলেই যেন এই বিষয়ে সচেতন থাকেন। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিতেই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কোনো ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। নির্বাচনী আচরণ বিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে উপযুক্ত প্রমাণসহ রিটার্নিং অফিসারের কাছে যেকোনো অভিযোগ হলে দিলে তিনি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।’

জেলা প্রশাসক এক প্রার্থীর প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘নির্বাচনী দায়িত্ব সাংবিধানিক এবং আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ, এটা নির্ধারিত। এর ব্যত্যয় করার কোনো সুযোগ নেই। রিটার্নিং কর্মকর্তা তিনি তার আইন কর্তৃত্ববলে অথরিটি অ্যাপ্লাই করবেন। এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্দেশনা মোতাবেক যে কার্যক্রম করার প্রয়োজন হয়, সেগুলো তিনি করছেন এবং করবেন। আইন সকলের জন্য প্রযোজ্য, সকলের জন্য সমান। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার যে আদেশ বা সহযোগী এখানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে তারা মানবেন। সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই। আমরা সকলে সতর্ক আছি, সচেতন আছি। কোনো অভিযোগ আসলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কে কোন প্রতীক পেলেন:

দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগর টগরের আপন ভাই বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলী মুনছুর বাবু পেয়েছেন আনারস প্রতীক, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এস এ এম জাকারিয়া আলম পেয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীক ও মো. আবু তালেব ঘোড়া প্রতীক পেয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত হয়েছেন মো. শফিউল কবির। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তানিয়া খাতুন প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় এ পদটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাঁদের মধ্যেও দেয়া হয়েছে প্রতীক বরাদ্দ। মোছা. সাহিদা খাতুন পেয়েছেন কলস প্রতীক ও তানিয়া খাতুন ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন।

``

অপর দিকে, জীবননগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান পেয়েছেন কাপ-পিরিচ প্রতীক ও এস কে লিটন পেয়েছেন আনারস প্রতীক। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈসা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জীবননগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছা. আয়েশা সুলতানা লাকী কলস প্রতীক ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী রেনুকা আক্তার রিতা পেয়েছেন হাঁস প্রতীক।

এদিকে, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। দুপুরের পর থেকে এই দুই উপজেলায় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার মাইক বের হয়েছিল। সড়কে ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে প্রার্থীদের পোস্টার টাঙানো হয়েছে। এছাড়া প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ছুটছেন ভোট প্রার্থনার জন্য।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী