বৈশাখের শুরু থেকেই তাপপ্রবাহে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা। তাপমাত্রার পারদ প্রতিদিনই ঊর্ধ্বগামী হচ্ছে। গত দুই দিন ধরে এ জেলায় চলছে অতি তীব্র তাপদাহ। বৃষ্টি না হওয়ায় তাপপ্রবাহ কমার সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না। তাপদাহ ও তীর্যক সূর্যের কড়া রোদের তেজে ঝলসে যাচ্ছে চারদিক। রোদের আগুনে পুড়ে যাচ্ছে গাছপালা ও প্রকৃতি। উত্তপ্ত হয়ে সড়ক-মহাসড়কের পিচ গলে গাড়ির চাকার সাথে উঠে যাচ্ছে। টানা খরতাপে মাঠ-ঘাট ও নদী-পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে। সার্বিক দিক মিলিয়ে এই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে সব ক্ষেত্রে।
গতকাল রোববার বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ১৮ শতাংশ। এর আগে একটানা চারদিন এ জেলা ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
এদিকে, টানা তাপদাহের ফলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এ অঞ্চলের জনপদ। দিন-রাত প্রায় সমানতালে গরম অনুভূত হচ্ছে। এই গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে অনেকে বৈদ্যুতিক ডিপ টিউবওয়েলের পানিতে গোসল করছেন। অনেকে আবার ডাব ও ঠান্ডা লেবুর শরবত পান করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন।
চুয়াডাঙ্গা শহরের কাঁচাবাজারে বাজার-সদাই করতে আসা নাসরিন আক্তার বলেন, ‘এই রোদ-গরমে বাইরে বের হলেই অনেক পানি পিপাসা লাগে। শরীর অনেক ঘেমে যায়। বাজার করতে এসেছিলাম, মনে হচ্ছে শরীর আগুনে ঝলসে যাচ্ছে। তাই লেবুর শরবত খেতে শরবতের দোকানে এসেছি।’

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর থেকে ক্রমেই ওপরে উঠতে থাকে তাপমাত্রার পারদ। ১৩ এপ্রিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৪ এপ্রিল ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও ১৫ এপ্রিল এ জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৬ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এটি দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। এরপর বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এদিন চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে যৌথভাবে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটিও সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল।
আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটা মৃদু তাপপ্রবাহ। ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ। ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে সেটি তীব্র তাপপ্রবাহ। ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে সেটিকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে। সে হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলায় টানা চার দিন তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে চলার পর দুই দিন ধরে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘রোববার দুপুর তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিকেল ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই মৌসুমে এ জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আপাতত স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে কালবৈশাখী ঝড় হলে তার সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে। এটা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।’ জামিনুর রহমান আরও বলেন, তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে গেলে সেটাকে খুব বা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে। সে হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় গতকাল শনিবার থেকে খুব বা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন