চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, অতিরিক্ত গরমে স্ট্রোকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মহিবুল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকে তাদের মৃত্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তাদের মৃত্যুর কারণ হিট স্ট্রোক নয়।
নিহতরা হলেন- দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদপাড়ার আজিম উদ্দীনের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৬০) ও একই উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন ঠাকুরপুর গ্রামের আমির হোসেন ছেলে ও ঠাকুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি জাকির হোসেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে অতিরিক্ত গরমে বুকে ব্যথা নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মর্জিনা খাতুন। এসময় স্থানীয় চিকিৎসকের নিকট থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বেলা তিনটার দিকে তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। এসময় তাকে উদ্ধার করে উপজেলার চিৎলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মর্জিনা খাতুন মৃত্যুবরণ করেন।

নিহত মর্জিনা খাতুনের ছেলে কামরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত গরমে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুপুরে মাকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার জন্য অটোভ্যানে ওঠানোর সাথে সাথে মা মারা যায়। পরে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ওটুকুও পেলাম না। গরম সহ্য করতে না পেরে মা মারা গেলেন।
এদিকে, গতকাল সকালে মাঠে নিজের কৃষিজমির পরিচর্যা করতে যান দপ্তরি জাকির হোসেন। মাঠে কাজ করার একপর্যায়ে সকাল ৮টার দিকে তিনি স্ট্রোক করেন। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকির হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জাকির হোসেনের পিতা আমির হোসেন জানান, রোদ গরমে মাঠের ধান মরার অবস্থা। ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য জাকির সকাল ৭টার দিকে মাঠে যায়। মাঠে যাওয়ার ঘণ্টা খানের পর খবর পায় ছেলে মাঠে স্ট্রোক করেছে। মাঠের অন্য কৃষকরা জাকিরকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মহিবুল্লাহ বলেন, সকালে ও দুপুরের পৃথক সময়ে জাকির হোসেন ও মর্জিনা খাতুন নামের দুজনকে জরুরি বিভাগে আনে পরিবারের সদস্যরা। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত অবস্থায় পেয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জাকির হোসেন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। তিনি হার্ট আ্যাটাক বা ব্রেইন স্ট্রোকে মারা যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত তাপমাত্রা ৪০ কিংবা তার অধিক হলে এবং ওই সময় রোদে কাজ করলে হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সকালবেলা হিট স্ট্রোকের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া মর্জিনা খাতুনও হিট স্ট্রোকে মারা যাননি।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোকসানা মিতা বলেন, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে উপজেলা সদরের মর্জিনা খাতুন ও সীমান্তবর্তী ঠাকুরপুর গ্রামের জাকির হোসেন নামের দুজনের মৃত্যুর বিষয়ে শুনেছি। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ হিট স্ট্রোক কি না, তা চিকিৎসক ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন