চুয়াডাঙ্গায় বহুমুখী মানবকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ড্রাইভিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গায় শহরের একাডেমি মোড়ের সারা ভবনে বহুমুখী মানবকল্যাণ সংস্থার কার্যালয়ে সার্টিফিকেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মনজু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপ নিয়েছে। আগামী ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিককে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বহুমুখী প্রশিক্ষণ চালু করেছে। সেই সাথে একজন নাগরিককে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থেকে বক্তব্য দেন বহুমুখী মানবকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ পিপুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল স্তরের নাগরিক যাতে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে, তারই ক্ষুদ্র প্রয়াস আমরা নিয়েছিলাম। আমরা মনে করি বহুমুখী মানবকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আমরা সঠিক এবং নিয়মতান্ত্রিক মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিতে সফল হয়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারীদের কীভাবে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে এসে তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায়। সেই নারীদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা, তা আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। পুরো প্রশিক্ষণজুড়ে আমরা ৪৫ শতাংশ নারীকে প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল্লাহ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা কার্যালয়ে উপ-পরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশিদ ও সহকারী পরিচালক আবু তালেব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক বিপুল আশরাফ।
চুয়াডাঙ্গা বহুমুখী মানবকল্যাণ সংস্থা থেকে কম্পিউটার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণাপ্রার্থীদের মধ্যে থেকে তুহিন ও সুরাইয়া অভিব্যক্তি করেন বলেন, ‘অত্যান্ত সুন্দর পরিবেশে এখানে কম্পিউটার ও ড্রাইভিং শেখানো হয়। আমরা এখান থেকে কম্পিউটার শিখে অনেকে অনলাইন ব্যবসা করছি এবং কেউ চাকরি করছি।’ উল্লেখ্য, ‘দুস্থ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বহুমুখী মানবকল্যাণ সংস্থা। কম্পিউটার প্রশিক্ষণে দুটি ব্যাজে ৬০ জন ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে ৩টি ব্যাজে ৯০ জন শিক্ষার্থীর হাতে সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন