চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান।
এদিকে, গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে ইউপি মেম্বার আব্দুর রশিদের বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসিনা মমতাজ ও জীবননগর থানার পুলিশ। তারা ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্ত করেন। এসময় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদের স্ত্রীর কাছে ইউএনও জানতে চান, তার বাড়ির রান্নাঘরে পাওয়া টিসিবির দুই বস্তা চাল কোথায়? উত্তরে তার স্ত্রী বলেন, ওই চাল গরিব মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘এ বিষয়ে যদিও অভিযোগটা আমাদের দপ্তরে করা হয়নি, তবুও টিসিবির বিষয়টা আমাদের দপ্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাই রশিদ মেম্বারের বাসায় গিয়েছিলাম সরকারি মালামাল আছে কি না দেখার জন্য। সেখানে কিন্তু মালামালগুলো নেই, আমরা কিছু পাইনি। তারপরও আমরা এটি অধিকতর তদন্ত করব। এবং তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। একটা প্রসেসের মধ্যে অলরেডি আছে।’
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান বলেন, তিন সাংবাদিকের ওপর হামলায় ঘটনায় মো. মিঠুন মাহমুদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। পরে সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে মামলার এক নম্বর আসামি আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত আছে।
তিনি আরও জানান, ‘প্রতারণামূলক সরকারি চাল আত্মসাৎ করার ঘটনায় আরেকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি আমরা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঝিনাইদহে প্রেরণ করব। বিষয়টি তারা তদন্ত করবে।’
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইউপি মেম্বার আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে টিসিবির পণ্য আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন স্থানীয় সাংবাদিক মাইটিভি ও স্থানীয় দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রতিনিধি মিঠুন মাহমুদ, দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মো. আজিজুর রহমান ডাবলু ও গ্রামের কাগজের প্রতিনিধি মো. তুহিনুজ্জামান তুহিন। ভাঙচুর করা হয় সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বুম ও মোবাইল। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই মিঠুন মাহমুদ বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন