চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও দামুড়হুদার পৃথক স্থানে পাখিভ্যান দুর্ঘটনায় এক শিশু ও ইটভাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও মেহেরপুরের গাংনীতে মাটিবাহী পাওয়ার ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে অপর এক শিশুর মৃত্যু হয়।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গার হাউসপুরে পাখিভ্যান চাপায় ফাহিম নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হাউসপুর বেলগাছি সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফাহিম হাউসপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিল্লাল হোসেনের দুই মেয়ে ফাহিমকে নিয়ে হাউসপুর সড়কে মেসওয়াক (দাতন) কাটতে যায়। ফাহিমকে কোল থেকে নিচে নামিয়ে মেসওয়াক কাটছিল তারা। এসময় রাস্তার অপর দিকে বাবা বিল্লাল হোসেনকে দেখে ফাহিম রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে। এমন সময় সড়ক দিয়ে যাত্রী বোঝাই একটি পাখিভ্যানের নিচে পড়ে মারাত্মক আহত হয় সে। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিক থেকে অক্সিজেন দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এদিকে, ভ্যানচালক হাউসপুর উত্তর পাড়ার ভাদু মণ্ডলের ছেলে আরজেদ আলী মৃত্যু সংবাদ শুনে সটকে পড়েন।

দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাহার আলী (১৮) নামের এক ইটভাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পাখিভ্যানে করে ইটভাটায় কাজে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। বাহার আলী উপজেলার উজিরপুর গ্রামের হামিমুল ইসলামের ছেলে ও শেখ ইটভাটার শ্রমিক।
দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল সকালে বাহার তার নিজের পাখিভ্যান নিয়ে শেখ ইটভাটায় কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। এসময় দামুড়হুদা-দর্শনা সড়কে জয়রামপুর শেখ ইটভাটার নিকট পাখিভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে বাহার আলী মারাত্মক আহত হন। পরে ভাটার শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে তার নিজ গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
গাংনী:
মেহেরপুরের গাংনীতে মাটিবাহী ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার ট্রলির চাপায় সোহাগ হোসেন (৭) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সোহাগ গাংনী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌগাছা গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সোহাগ একটি সজনে গাছের পাতা পাড়তে রাস্তা পার হচ্ছিল। এসময় পেছন দিক থেকে একটি দ্রুতগামী মাটিবাহী ট্রলি তাকে চাপা দেয়। এতে সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে পথচারীরা সোহাগকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মারুফ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, পাওয়ার ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবার থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় ও লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিত ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন