জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে যৌন হয়রানি, ইভটিজিং, মাদক, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বকুলতলায় এ সভার আয়োজন করা হয়। আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা হাকিবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা।
তিনি বলেন, ‘আলোচনায় বিভিন্ন দাবি ও নানা সমস্যার কথা বলা হয়েছে। আমি সেগুলো নোট করেছি। আসুন আমরা বাল্যবিবাহ, মাদক, জঙ্গিবাদ ও ইভটিজিংকে না বলি। নীতির বিরুদ্ধে গেলেই সেটি দুর্নীতি। নীতি ও নৈতিকতার বিরুদ্ধে গেলেই সে কিন্তু ইভটিজিং করবে ও মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়বে। নীতির বিরুদ্ধে গেলেই অপরকে শ্রদ্ধা-সম্মান করতে শিখবে না। নীতির বিরুদ্ধে গেলেই একজন ছাত্র শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার সাহস পায়। নীতি শিখব কোথায়? এই নীতি কে শিখাবে? একজন ছাত্র বা আপনার সন্তান স্কুলে বা বাইরে থাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৬ ঘণ্টা। বাকি ১৮ ঘণ্টা কোথায় থাকে? বাবা-মা, পরিবার, চাচা-চাচী, মামা-মামী বা আপনার নিকট থাকে। সে স্মার্ট মোবাইল ফোনে আসক্ত ও মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়লে দায়ী কে? সমাজ দায়ী করে কাকে? বাবা-মা ও পরিবারকে। পরিবার ভালো থাকলে সমাজ ভালো থাকবে। সমাজ ভালো থাকলে, ইউনিয়ন ভালো থাকবে। ইউনিয়ন ভালো থাকলে উপজেলা ভালো থাকবে। উপজেলা ভালো থাকলে, জেলা ভালো থাকবে। জেলা ভালো থাকলে, একটি দেশ বা রাষ্ট্র ভালো থাকবে। আমরা নীতি ও নৈতিকতার শিক্ষা একটি পরিবার থেকে পাব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসিনা মমতাজ বলেন, একজন শিক্ষকের ৪০ মিনিট ক্লাস নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি ৩০ মিনিট ক্লাস নিয়েছেন। নীতির বিরুদ্ধে গেলেই সেটা দুর্নীতি। একজন জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান-মেম্বার বয়স্ক-বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিলে সেটা দুর্নীতি। তিনি আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবন অপসারণ, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র দ্রুত চালুকরণের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ-আলোচনার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আশ্বাস প্রদান করেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মজিবুর রহমান ফণ্টু, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. আলী হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা সাইফুজ্জামান, আন্দুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম মামুন, সিনিয়র সাংবাদিক নারায়ণ ভৌমিক, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শেখ আতিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ওয়াদুদুর রহমান ও সুজাত হোসেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন উপজেলা লোকমোর্চার সমন্বয়কারী আব্দুল আলিম সজল।
অনুষ্ঠান শেষে আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও বিশেষ অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বিষয়ে তাগিদ দেন। সরকারিভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে সকল নাগরিককে পেনশন আওতায় ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাকে অবহিত করেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন