গত ১০ মার্চ জীবননগর উপজেলা পরিষদরে সভাকক্ষে ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিভিন্ন গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের বিষয়টি ছিল। সভায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে বলে জানান আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আরশাফুল আলম।

তবে গতকাল ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে ভর্তি আছেন ৬৬ জন রোগী, তবে দুপুরে মাত্র ৩১ জনকে খাবার দেওয়া হবে। বাকি ৩৫ জনকে খাবার দেওয়া হবে না। ওই ৩১ জনের জন্য বরাদ্দ ছিল মুরগীর রোস্ট, ডাল, পোলাও ভাত ও মাত্র দুই কেজি দই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরশাফুল আলম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুসারে যে কয় বেডের হাসপাতাল, সে কয় বেডের খাবার দেওয়া হবে। প্রস্তুতিমূলক সভায় হাসপাতালে ভর্তি সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলেছিলেন, সেই বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমও বলেন, ‘আপনার কাছে মিটিংয়ের রেকর্ড আছে?’ রেকর্ড আছে জানালে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা ডকুমেন্ট যেহেতু আছে, সবার জন্য বলতে, ওপর থেকে যে কয়জনের জন্য খাবার আসবে, তাদের জন্য। কথা ক্লিয়ার। আপনি তো এখানকার সাংবাদিক না? আপনি আগের বছরের তা তো জানেন। এটা তো বিয়ে বাড়ি না, যত জন ভর্তি হবে সবাই খাবার পাবে। এটা হলো সরকারি নিয়ম অনুসারে।’

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, গত শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ৬০ জন রোগী ভর্তি ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। রাত ১২টা থেকে গতকাল রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত আরও ছয়টি রোগী ভর্তি হয়। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৬৬ জন রোগী।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগী ও তাদের স্বজন নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘হাসপাতালে আজ অনেক রোগী ভর্তি রয়েছে। তবে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে মাত্র ৩১ জনকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। একদিন তো সব রোগীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পারতো। কয়েকজনকে দিলো আর বাকিদের খাবার দিলো না।’
সমীকরণ প্রতিবেদন