দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রথম পাতায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ‘চুয়াডাঙ্গার উক্তগ্রামে মাঠে গড়ে উঠে অবৈধ সীসা কারখানা, বাড়তে পাড়ে হৃদ্রোগ, হুমকির মুখে পরিবেশ’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নজর পড়ে সদর উপজেলা প্রশাসনের।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাজ্জাদ হোসেন অভিযান চালিয়ে অবৈধ সীসা কারখানা বন্ধ করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর প্রশাসনের অভিযানে পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরক অবৈধ সীমা কারখানা বন্ধ হওয়ায় এলাকাবাসী দৈনিক সময়ের সমীকরণ ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দোস্ত গ্রাম ও উক্তগ্রামের আঞ্চলিক সড়কের পাশে প্রায় মাসখানেক আগে এরশাদ নামের এক ব্যক্তির জমি ভাড়া নিয়ে বগুড়া জেলার শাহীন এই সীসা কারখানা গড়ে তোলেন। কারখানায় বিভিন্ন স্থান থেকে নষ্ট ব্যাটারি সংগ্রহ করে তা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে সীসা তৈরি করা হতো। যা মানব দেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।
এই অবৈধ সীসা কারখানা নিয়ে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সময়ের সমীকরণের প্রথম পাতায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে কারখানা বন্ধ ও পরিবেশ আইন ১৮৬০ এ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে আজকের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে কারখানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিদের্শ প্রদান করা হয়।
সূত্রে জানায়, সীসা দূষণের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ। সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদ্রোগে আক্রান্ত ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। একই কারণে দেশের শিশুদের আইকিউ কমে যাচ্ছে, যার ফলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, ব্যাটারির বর্জ্য পুড়িয়ে সীসা তৈরি করলে তা আশপাশে থাকা মানুষের শরীরে পয়জনিং (রক্তকণিকা ও মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতি করা) সৃষ্টি করে। এর ফলে মানসিক বিকৃতি, রক্তশূন্যতা ও মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন হতে পারে।
সমীকরণ প্রতিবেদন