সমীকরণ প্রতিবেদন:
যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার পথে তিউনিসীয় উপকূলে একটি অভিবাসী ভর্তি নৌযানে আগুনের ঘটনায় ৯ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সাগরে টহলরত অবস্থায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা ওই নৌযান থেকে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে সেবা দিচ্ছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনা ঘটে।
লিবিয়ার ত্রিপোলিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ইউরোপগামী অভিবাসী ভর্তি ওই নৌকায় অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই যারা মারা গেছেন তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশী বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। এখন আগুন লাগার নেপথ্যের কারণ কী এবং নিহত বাংলাদেশীদের নাম, ঠিকানা ও বিস্তারিত পরিচয় উদ্ধারে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তিউনিসিয়ায় একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এ দিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার দেয়া তথ্য মোতাবেক বিভিন্ন দেশের উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পথে পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ২০২৩ সালে তিন হাজারেরও বেশি অভিবাসী মারা গেছেন ও নিখোঁজ রয়েছেন।
গত শনিবার লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আমরা দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, লিবিয়া উপকূল থেকে ৫২ জনের একদল অভিবাসী সাগর পথে ইউরোপ যাওয়ার সময় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিউনিসীয় উপকূলে তাদের বহনকারী নৌকাটিতে অগ্নিকাণ্ডে দুর্ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী ওই নৌযান থেকে ৯ অভিবাসীর লাশ এবং ৪৩ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়াও এ দুর্ঘটনায় নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশী বলে দূতাবাস বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছে।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দূতাবাস তিউনিসিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং আইওএমের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। এ ছাড়াও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকৃতদের সাথে সাক্ষাৎপূর্বক তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং মারা যাওয়া বাংলাদেশীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে দূতাবাসের একটি টিমকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিউনিসিয়া পাঠানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দূতাবাসের বরাত দিয়ে আরো বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য মতে, বিভিন্ন দেশের উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টার সময় ২০২৩ সালে তিন হাজারেরও বেশি অভিবাসীর মৃত্যু এবং নিখোঁজ হয়েছেন। এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং লিবিয়া ও তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী তাদের নজরদারি জোরদার করেছে। ফলে বর্তমানে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। সবাইকে এ কারণে দালাল ও পাচারকারীদের প্ররোচনা ও প্রতারণায় পড়ে এমন জীবনের ঝুঁকি না নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে দূতাবাসের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া লিবিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসীদেরকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্যও অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতদেরকেও সতর্ক করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে দূতাবাসের পক্ষ থেকে।
সমীকরণ প্রতিবেদন