ঝিনাইদহ অফিস:
ইতালি প্রবাসী চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করেছিল লাল্টু মোল্লা (৩৪) নামের এক যুবক। ওই প্রবাসীর দুই ছেলে মাকে ভাগিয়ে বিয়ে করায় চাচাকে হত্যা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের কাকুড়িয়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লাল্টু কাকুড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের গ্যানো মন্ডলের ছেলে ও ইতালি প্রবাসী লকাই মন্ডলের চাচাতো ভাই। লকাই মোল্লার দুই ছেলে হলেন মিমতাই মোল্লা (২৪) ও মিরাজ মোল্লা (২২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লকাই মোল্লা দীর্ঘদিন ইতালি থাকায় তার স্ত্রী রিভা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়ার জড়িয়ে তাকে ভাগিয়ে বিয়ে করেন লাল্টু। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন রিভা খাতুনের দুই ছেলে মিমতাই ও মিরাজ। এদিকে বিয়ের পর থেকে লাল্টু স্ত্রী নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর লাল্টু কিছুদিন আগে রিভাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে এসে বসবাস শুরু করেন। এর দুই মাস আগে লকাই মোল্লা ইতালি থেকে বাড়ি ফিরে ঘটনা জানতে পেরে আবার প্রবাসে পাড়ি জমান।
এদিকে, চাচা লাল্টুর এমন কর্মকাণ্ডে তার ওপর ক্ষোভের সৃষ্টি হয় মিরাজ ও মিমতাইয়ের। গতকাল দুপুরে লাল্টু মোল্লা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কাকুড়িয়াডাঙ্গা মাঠে পৌঁছালে মিরাজ ও মিমতাই দুই ভাই মিলে লাল্টুকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে স্থানীয়রা লাল্টুকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক বিশ^াস বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সাহেব আলী বলেন, গতকাল দুপুরে লাল্টু কাকুড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের মাঠের মধ্যে বসেছিলেন। কোথা থেকে এসে লাল্টু তার পাশে বসেন। একটু পরেই তার দুই ভাতিজা ধারালো অস্ত্র দিয়ে লাল্টুকে কোপাতে থাকেন। পরে লাল্টুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম চৌধূরী জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বে লাল্টু নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকারীদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন