সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সংসদ বাতিলের দাবিতে বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত কালো পতাকা মিছিল ছিল করেছে বিএনপি। গতকার মঙ্গলবার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গায় শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ কের। তবে মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
চুয়াডাঙ্গা:
কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জেলা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে জেলা বিএনপির আয়োজনে মিছিল ও সমাবশে অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপ্টনের সঞ্চালনায় মিছিল ও সামবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক আবু।
বক্তারা বলেন, ‘দেশের মানুষ এই ভোটচোর সরকারকে চায় না। মানুষ ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে বয়কট করেছে। বর্তমান সরকার দেশেকে লুটপাট করে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে এসেছে। আজ দেশে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, কলকারখানা বন্ধ হতে চলেছে। আমরা দেশে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ চাই। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার চাই। এই সরকার ষড়যন্ত্র করে আমাদের নেত্রী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে। সারাদেশে তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এই পদত্যাগে বাধ্য করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের এই আন্দোলন চলবে। এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝণ্টু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব মওলানা আনোয়ার হোসেন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মালিক, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরীন বেগম, সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এম এস হাসান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হ্যাজি, সদস্যসচিব আজিজুর রহমান আজিজুল ও পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাজেদুল আলম মেহেদী। এছাড়াও মিছিল ও সমাবেশে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মেহেরপুর:
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিএনপি নেতাদের মুক্তির দাবিতে মেহেরপুর জেলা বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশের বাঁধায় পণ্ড হয়েছে। গতকাল বিকেলে শহরের কাথুলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুণের নেতৃত্বে একটি কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শুরুর পরপরই মিছিলের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। পরে পুলিশি বাধার মুখে কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে মিছিল সেখানেই শেষ করেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলে অংশ নেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল্লাহ, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে পুলিশের বাঁধায় পণ্ড হয়েছে বিএনপির কালো পতাকা মিছিল। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয় চত্বরে বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। পরে দলীয় কার্যালয় থেকে নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। পুলিশের বাঁধায় মিছিল করতে না পেরে সেখানেই সমাবেশ করেন তারা। এসময় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, আলমগীর হোসেন আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন। বক্তারা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল নেতা-কর্মীদের নামে মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ সংসদ বাতিলের দাবি জানান।
সমীকরণ প্রতিবেদন