সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ

  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০১-২০২৪ ইং
চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক দিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলাজুড়ে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এটিই দেশের সর্বনিম্ন ও মৌসুমের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। হাড় কাঁপানো শীত ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনপদ। ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তাই তাপমাত্রা না বাড়া পর্যন্ত জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে, আজ বুধবারও বন্ধ থাকবে জেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্কুল বন্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান। তীব্র শীতে গতকাল মঙ্গলবারও জেলার সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, তুষারাচ্ছন্ন বাতাস আর হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার মানুষ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের দেখা মিললেও মৃদু হিমেল বাতাসে বইছিল। বিকেল থেকে আবার শীত বাড়া শুরু হয়। তীব্র শীত ও ঠান্ডা বাতাস মিলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তীব্র শীতে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ওই দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এরপর সারা দিনই আকাশ মেঘলাসহ কিছু জায়গায় বৃষ্টি হয়। শুক্রবার আকাশ পরিষ্কার হয়ে সূর্যের দেখা মিললেও ছিল না রোদের উত্তাপ। তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন শনিবার তাপমাত্রা ২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত রোববার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বশেষ গত সোমবার এ জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন রাত ৯টায় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দিনের ব্যবধানে জেলার তাপমাত্রার পারদ নেমে এসেছে ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের শিপন আলী বলেন, ‘শীতে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। লেপের মধ্যে থেকেই বের হতে মন চাই না। তারপরও কাজে আসতে হয়েছে। তবে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও আজ আমি কাজই পাইনি।’ শহরের পাখিভ্যানচালক সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেখার কেউ নেই। ভ্যান নিয়ে না বের হলে ঘরে খাবার জুটবে না। দেখার কেউ নেই।’ পুরোনো কাপড় বিক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, শীতে কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। মানুষজন গরম কাপড় কিনতে আসছেন।
রিকশাচালক কাশেম আলী বলেন, ‘আমি রাতে রিকশা চালায়। রাত থেকেই খুব ঠান্ডা। হাত অবাশ হয়ে যাচ্ছে। তাই গত রাতে বেশিক্ষণ বাইরে থাকতে পারিনি।’ শহরের এক বাসা বাড়ির গৃহকর্মী হাসি খাতুন বলেন, ‘বাড়ির মধ্যে থেকেও মহিলাদেরও অনেক কষ্ট। এতো শীতে সকালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বা পানিতে হাত দেওয়া খুব কষ্টের। শীতে প্রচণ্ড সমস্যায় আছি।’ আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ গ্রামের রমিজ আলী বলেন, ‘আমাদের এদিকে মাঠ বেশি। আবার আমার বাড়িও মাঠের মধ্যে। যে শীত, বাড়িতে থাকা মুশকিল। আমরা গরিব মানুষ, কিছু করার নেই, শীত আমাদের সহ্য করতে হবে।’

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। যা দেশের এবং এই মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এছাড়া, গতকাল সকাল ৬টায় এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৬ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, এর আগে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি এ জেলার তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আর ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তবিবুর রহমান বলেন, শৈত্য প্রবাহ চলায় তাপমাত্রা না বাড়া পর্যন্ত জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়মিত আবহাওয়া অফিস ও বিদ্যালয়ের প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তিনি আরও বলেন, গত সোমবার চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের সাথে কথা বলে তাপমাত্রা আরও কমার পূর্বাভাস পাওয়ায় খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের নির্দেশে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় মঙ্গলবারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান জানান, তীব্র শীতের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে বিদ্যালয়গুলো বুধবার পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারও পাঠদান বন্ধ ছিল। তবে শিক্ষকরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাবেন।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় শীতের পরিমাণ একটু বেশি। সরকারিভাবে আসা শুকনা খাবার ও কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি বিত্তবানদের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী