ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদকের চালান ধরিয়ে দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা করতে গিয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও একজন। গতকাল বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের বাঘাডাঙ্গা (পল্লিআইট) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন- বাগাডাঙ্গা গ্রামের শামছুল রহমানের ছেলে শামীম হোসেন (৩০) ও একই গ্রামের নয়ন মন্ডলের ছেলে মণ্টু মিয়া (৩২)। আর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নিহত শামীমের বাবা শামসুল ইসলাম।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তরিকুল ইসলাম আকালে ও শামীম গ্যাংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে শামীমের মাদকের চালান ধরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শামীম ও তরিকুলের মধ্যে মারামারি হয়। এ নিয়ে একাধিকবার হামলা পাল্টা হামলা হয়। এর জের ধরে গতকাল বুধবার বিকেলে পৌনে চারটার দিকে শামুসল ইসলাম, তার ছেলে শামীম এবং মণ্টু মিয়া দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তরিকুল ইসলাম আকালের বাড়িতে হামলা চালাতে যান। এসময় আকালে তার বাড়ির ছাদ থেকে গুলি চালান। এতে শামীম, তার বাবা শামসুল ইসলাম ও মণ্টু গুলিবিদ্ধ হন।

পরে মণ্টুকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মুস্তাফিজুর রহমান তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে শামীম ও তার বাবা শামসুল ইসলামকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক মামুন গুলিবিদ্ধ শামীমকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শামীম মারা গিয়েছিল। আর গুলিবিদ্ধ শামসুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসার দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবাইদুর ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে শামীমের মাদকের চালান ধরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পল্লিআইট গ্রামের শামীম ও তরিকুলের মধ্যে মারামারি হয়। পরে তরিকুলকে শামীমের মামলায় জেল খাটতে হয়। দুই দিন আগে তরিকুল জেল থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। তবে শামীম গংদের চাপে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারছিলেন না। গতকাল বিকেলে শামীম তার দলবল নিয়ে তরিকুলের বাড়িতে হামলা করতে যান। এসময় তরিকুলের গুলিতে শামীম ও মণ্টু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে তরিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন