ঝিনাইদহ অফিস:
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাই এমপি ও তার দুুই কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। শৈলকুপা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তায়জুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল রোববার শৈলকুপার সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালতে এই মামলা করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ও সারুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুন।
এর আগে নির্বাচন কমিশন ইসির নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে মামলার নির্দেশ দেন। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে শৈলকুপার কীর্তিনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও পুরাতন বাখরবা গ্রামের বাঁধন শেখ। ঝিনাইদহ জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান গতকাল রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল করে জনমনে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে তার সমর্থকরা। সেই সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার এজেন্টদের বিরুদ্ধে হুমকি ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি ৮(ক) ১১(ক) ও ১২ বিধি লঙ্ঘন করায় তাদের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার নির্দেশ দেয়।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তায়জুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। এদিকে রোববার বিকেলে শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নৌকার প্রার্থী আব্দুল হাই প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এসময় মামলা দায়ের ও নির্বাচনী ভিজিলাইজেশন টিম আসার খবর মঞ্চে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম হোসেন মোল্লা, মতিয়ার রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম আহমেদ সরে পড়েন।
স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল খাঁ জানান, নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ অনেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম আহমেদ ও যুবলীগের সভাপতি শামীম হোসেন মোল্লার মোবাইলে ফোন করে বক্তব্য জানার চেষ্টা করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে নৌকার প্রার্থী আব্দুল হাই এমপি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মামলা দিয়েছে। ব্যালটের মাধ্যমে শৈলকুপাবাসী এই ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব প্রদান করবেন।’
সমীকরণ প্রতিবেদন