সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

প্রেমিকাকে ফাঁসাতে নিরিহ দিনমজুরকে হত্যা

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১২-২০২৩ ইং
প্রেমিকাকে ফাঁসাতে নিরিহ দিনমজুরকে হত্যা

ঝিনাইদহ অফিস:

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নাজমা নামে এক নারীকে শায়েস্তা করতে গিয়ে নিরিহ এক দিনমজুরকে হত্যা করা হয়। অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন খুনি সোহেল রানা (৪৩) নিজেই। স্কেচ ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে যৌথভাবে ক্লুলেস ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দুধসর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। গতকাল বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার ঘটনার বর্ণনা করেন পুলিশ সুপার আজিম-উল-আহসান। অপর দিকে, র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও ক্লুলেস এই হত্যার বর্নণা করা হয়েছে।

পুলিশ সুপারের দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৮ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানার মহারাজপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের একটি কলাবাগানে আসলাম হোসেন নামে এক দিনমজুরকে হত্যা করা হয়। আসলাম পাবনার চাটমোহর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় সে সময় গোলাম মোস্তফা নামের এক কৃষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম মোস্তফা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। পুলিশ ক্রাইম সিনে নিহত আসলামের পকেটে পাওয়া নাজমা বেগম নামের এক নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। নাজমা বেগম (৪২) শৈলকুপা উপজেলার দুধসর গ্রামের ওমর আলীর মেয়ে। নিহত ব্যক্তির পকেটে নাজমার পরিচয়পত্র কীভাবে গেল, এ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

নাজমা বেগম তখন পুলিশকে জানান, সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে ধরে টিসিবির কার্ড করে দেবার নাম করে সোহেল রানা পরিচয়পত্রটি নেয়। এরই মধ্যে সোহেল রানার সঙ্গে নাজমার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নাজমা বেগম সোহেল রানার বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিভিন্ন সময় সোহেল রানা অভিযোগটি তুলে নিতে নাজমা বেগমকে অনুরোধ করে। নাজমা অভিযোগ না তোলায় সোহেল রানা বাড়িছাড়া হয় এবং নাজমা বেগমকে যেকোনোভাবে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করতে থাকে।

পুলিশ সুপার জানান, আসামি সোহেল রানার কোনো ডিজিটাল ছবি না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া ব্যহত হচ্ছিল। পরবর্তীতে ঢাকার স্কেচ আর্টিস্ট মামুন হোসাইনকে দিয়ে নাজমা বেগমের বর্ণনা মতে আসামির  স্কেচ তৈরি করা হয় এবং আসামি ভাসমান থাকায় বিভিন্ন থানায় স্কেচ পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি ও স্কেচ ছবির মাধ্যমে র‌্যাবের সহায়তায় ঝিনাইদহ থানা পুলিশ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চান্দিরচর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়।

জবানবন্দীতে সোহেল রানা জানায়, গত ১৭ নভেম্বর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মুরগীহাটা এলাকায় নিহত আসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। সোহেল রানা ভিকটিম আসলামকে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রামনগর গ্রামে নিয়ে যায় এবং হত্যার পর তার পকেটে নাজমা বেগমের পরিচয়পত্র ঢুকিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী