লম্বা ছুটিতে ঝামেলাহীন ঈদযাত্রা, নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষ
- আপলোড তারিখঃ
১৯-০৪-২০২৩
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
পুরনো রাস্তার সংস্কার। নতুন নতুন রাস্তা চালু। যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা প্রয়োগ। আর এসবের সুফল মিলতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পর এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নেই। নেই যানজট। নৌপথে নেই সেই আগের মতো হুড়োহুড়ি। আর রেলপথে পাল্টে গেছে চিরচেনা চিত্র। ট্রেনের ছাদে নেই যাত্রীদের মরণপণ বাড়ি ফেরার চেষ্টা। ঈদযাত্রার প্রথম দিনের চিত্র এটি। গতকাল রাজধানীর আন্তনগর বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাটে ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
পাল্টে গেছে কমলাপুরের চিরচেনা চিত্র :
ঈদ উপলক্ষে কমলাপুরে নেই টিকেটের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, নেই ট্রেনে ওঠার হুড়োহুড়ি। শুধু টিকেটধারীসহ ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকেটের যাত্রীদের নিয়ে ছুটছে ট্রেন। যদিও ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর দিন গতকাল আগের ২ দিনের চেয়ে যাত্রীর ভিড় একটু বেশি ছিল কমলাপুরে। তবে শিডিউল বিপর্যয় তেমন দেখা যায়নি। এবারের ট্রেনে ঈদযাত্রা যেন এক অন্যরকম অনুভূতির, স্বস্তির। সুন্দরবন এক্সপ্রেসে করে খুলনা যাওয়ার জন্য মাকে নিয়ে ঘণ্টাখানেক আগেই স্টেশনে পৌঁছান সরকারি কর্মকর্তা ফারহানা লিপি। স্টেশনের চিত্র দেখে তো তিনি হতবাক। নেই কোনো ভিড়, হৈ-হল্লা। প্লাটফর্মে ঢোকার আগেই তিন দফা চেক করা হচ্ছে টিকেট। টিকেটবিহীন কাউকে প্লাটফর্মে ঢুকতেই দেয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, অন্যান্য বছর অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। ট্রেনে ওঠা যায় না ভিড়ের কারণে। এজন্য আগেই চলে এসেছিলাম। কিন্তু এবার দেখি কোনো ভিড় নেই। সময়মতোই ট্রেন প্লাটফর্মে দেয়া হয়, উঠতেও তেমন সমস্যা হয়নি। এসি কোচ হওয়ায় নেই কোনো বাড়তি বা দাঁড়ানো যাত্রী। এরকম সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য রেলওয়েকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
গত মার্চ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ট্রেনের টিকেট বিক্রি শুরুর পাশাপাশি যার নামে টিকেট, তিনি ছাড়া অন্য কারো যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং টিকেটে সহযাত্রীদের নাম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তখন থেকে ট্রেনযাত্রার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ঈদযাত্রার দুর্ভোগ কমাতে এবার যার নামে টিকেট, তিনিই ট্রেন চড়ছেন কিনা, সেটি নিশ্চিত করতে তিন জায়গায় চলছে পরিচয় পরীক্ষা। প্রধান সড়ক থেকে স্টেশনে ঢুকতেই একবার, স্টেশন ভবনের মুখে দ্বিতীয়বার এবং প্ল্যাটফর্মে ঢোকার গেটে আরেকবার টিকেটের সঙ্গে যাত্রীর নাম ও পরিচয় মিলিয়ে দেখছেন রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে নিরাপত্তার এই কড়াকড়িতে যাত্রীদের অসন্তুষ্ট হতে দেখা যায়নি বরং এ নিয়ম অবাঞ্ছিতদের ঠেকাবে বলে যাত্রীরা ছিলেন খুশি। এবার নন এসি বগিগুলোতে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকেট ছাড়া হলেও সংখ্যায় তা সীমিত, ২৫ শতাংশ মাত্র। ফলে তীব্র গরমে গাদাগাদি করে যেতে হচ্ছে না। এদিকে ছাদেও উঠতে দেয়া হচ্ছে যা যাত্রীদের। রেলের কর্মীরা জানিয়েছেন, কমলাপুর ছাড়াও বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশনে ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে আছে কঠোর নজরদারি। যাত্রীচাপ কম থাকায় এবার ট্রেনগুলো ছুটতে পারছে স্বাভাবিক গতিতে। ফলে এখন পর্যন্ত শিডিউল বিপর্যয় দেখা যায়নি।
ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কমলাপুর ছেড়ে গেছে ৩৬টি ট্রেন। এর মধ্যে নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। বাকি ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতেই শতভাগ টিকেট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এতে ভোগান্তি কমেছে যাত্রীদের। এখন পর্যন্ত বড় কোনো ঝামেলা ছাড়াই সবগুলো ট্রেন ছাড়া হয়েছে। যদিও পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে যাত্রার তৃতীয় দিনে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে স্ট্যান্ডিং টিকেট (দাঁড়িয়ে যাওয়া) প্রত্যাশীদের ভিড় বাড়ে। শতকরা ২৫ শতাংশের বেশি স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে না। এতে করে অনেক যাত্রীই টিকেট কাটতে না পেরে হতাশ হয়ে স্টেশন ত্যাগ করছেন। গতকাল কাউন্টারগুলোর সামনে দেখা যায়, ২৫ শতাংশ টিকেট শেষ হওয়ার পরপরই বাকিদের লাইন থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। পরে অন্য ট্রেনের জন্য আবারো টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে।
স্ট্যান্ডিং টিকেটের জন্য দীর্ঘসময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজশাহীর যাত্রী রাসেল ও রাজ্জাক। দুজনই গার্মেন্টস কর্মী। তারা বলেন, অনলাইনে টিকেটের জন্য চেষ্টা করেও পাইনি। তাই স্টেশনে স্ট্যান্ডিং টিকেটের জন্য এসেছি, শেষ পর্যন্ত পেলাম। অন্তত দাঁড়িয়ে তো বাড়ি যেতে পারব, পরিজনদের সঙ্গে ঈদ করতে পারব- এতেই আমরা খুশি। এদিকে ঈদযাত্রায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। উত্তরাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা ৭টি ট্রেন রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে না থেমে সরাসরি চলে আসছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, যার ফলে বিনা টিকেটের যাত্রীরা সেখান থেকে ট্রেনে উঠে সিট দখল করতে পারছে না। গত ১৭ এপ্রিল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি ও রংপুর এক্সপ্রেস ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিচ্ছে না।
সড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ থাকলেও নেই যানজট :
ঈদযাত্রায় সড়কপথে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন এলাকার বাস কাউন্টারে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সন্ধ্যা থেকে তা আরো বাড়তে থাকে। তবে টিকেট কাউন্টারগুলোয় যাত্রীর তেমন চাপ দেখা যায়নি। অনলাইনে টিকেট বিক্রি হওয়ায় সব রুটের যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে কাউন্টারে এসেই বাসে উঠছেন। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে মানুষের চাপ বাড়লেও তেমন ভিড় ছিল না। সড়ক-মহাসড়কে যানজট না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানির বাস নির্ধারিত সময়ে টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত বেশ স্বস্তি নিয়েই ঢাকা ছেড়েছে মানুষ। তবে সব রুটে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাস ঈদ শিডিউল অনুযায়ী যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। পান্থপথ, কলেজগেট, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল এলাকার বাস কাউন্টারগুলো থেকেও যথাসময়ে বাস ছেড়েছে। দুপুরের দিকে যাত্রী কম ছিল। রজব আলী মার্কেটের বাস কাউন্টারগুলোয় টিকেটের জন্য চাপ ছিল না। বিক্রয়কর্মীরা অলস সময় পার করেছেন। হানিফ পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা মোসলেম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার যাত্রী অনেক কম। আমরা আরো যাত্রীর আশা করেছিলাম। এখনো অনেক টিকেট অবিক্রীত রয়েছে।
দুপুরের পর ঈদযাত্রা পুরোপুরি শুরু হওয়ায় রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, কাঁচপুর, গাবতলী, বাবুবাজার, পোস্তগোলা এলাকায় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে এসব এলাকায় পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। গাবতলীতে যানজট না থাকলেও অন্যান্য সড়কে ধীরগতিতে যানবাহন চলেছে। মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। সড়কে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ঢাকা ছেড়েছে। সব পথেই মোটরসাইকেলের ব্যাপক চাপ দেখা গেছে। বিশেষ করে ঢাকা-মাওয়া রুটে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেলের চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। কাঁচপুর থানা হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, সকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোনো যানজট নেই। মহাসড়কে শতাধিক হাইওয়ে পুলিশ এবং ৫০ জন ভলান্টিয়ার কাজ করছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়কে গতকাল ভোর থেকেই যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কিছু এলাকায় ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। তবে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনের ধীর গতির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে। রাস্তা থেকে যাত্রী ওঠানামা করা এবং সিগন্যালের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর থেকে লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত যানবাহন কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়েতে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বিকালে গাড়ির চাপ বেড়েছে। মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে বরপা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ আরো বাড়বে। তাছাড়া বরপা বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয় যানবাহনের স্ট্যান্ড আছে। এতে রাস্তার অনেক অংশ দখল হয়ে আছে। মহাসড়কের রূপসী ও বরাবোতে উভয় দিকের লিংক রোডের মুখে লেগুনা, ইজিবাইক ও রিকশা দাঁড় করিয়ে রাখার ফলেও যানজট হয়। এসব এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নজরদারি না করলে ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়কে। মহাসড়কের ভোগড়া, বাসন, টঙ্গী রেলস্টেশন এলাকায় সব ধরনের যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল একেবারেই স্বাভাবিক ছিল। দুপুরের পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। এলেঙ্গা থেকে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনগুলো দুই লেনের সড়ক হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হচ্ছে।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ নেই :
ঈদযাত্রায় নৌপথে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সদরঘাট টার্মিনাল থেকে পরিপূর্ণ যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ছেড়ে গেছে। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীরা সদরঘাটে এসে বিভিন্ন রুটের লঞ্চে ওঠেন। চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলোয় যাত্রীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। দুপুরের পর থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যাত্রীর চাপ দেখা গেছে। এবার আশানুরূপ যাত্রী পাওয়ায় লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকরা আশায় বুক বেঁধেছেন। এদিকে মাওয়ায় পদ্মা নদী পারাপারের জন্য শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌরুটে ঈদ উপলক্ষে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। মূলত মোটরসাইকেল পারাপারের জন্যই এই ফেরি চালু করা হয়েছে। তাতে যাত্রীরাও পারাপার হচ্ছেন। সেখানে কিছুটা চাপও দেখা গেছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ২০টি ফেরি পারাপার জন্য রাখা হয়েছে, তবে এখানে যাত্রী ও যানবাহনের কোনো চাপ নেই বলে জানা গেছে।
স্বাভাবিক সময়ে সদরঘাটে যাত্রী সংকটের কারণে প্রতিটি রুটে নিয়মিত লঞ্চের সংখ্যা কমে যায়। প্রতিদিন এক রুটে ২-৩টি লঞ্চ চলাচল করলেও আশানুরূপ যাত্রী হতো না। অনেক সময় লোকসান নিয়েই চলতে হয়েছে। এবারের দৃশ্যপট গত ঈদের থেকে একেবারেই ভিন্ন। এবার অনেক আগে থেকেই লঞ্চের কেবিন বুকড হয়ে গেছে। গতকাল অনেকেই সদরঘাটে এসে কেবিন না পেয়ে ডেকে চাদর বিছিয়ে যাত্রা করেছে। ডেকেও এবার বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এমভি সুরভী লঞ্চের স্টাফ মেহেদী জানান, এবার ঈদযাত্রায় লঞ্চগুলো ভালো যাত্রী পাচ্ছে। সব রুটেই লঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ১৭ এপ্রিল থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটে প্রতিদিন ১০টির বেশি লঞ্চ চলছে। এমন হলে ঈদের আগের ২-৩ দিন ৬ থেকে ৭টা করে লঞ্চ চলবে বরিশালে। সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের স্টাফ হাসান জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষ দিনের বেলায় বাসে না গিয়ে এবার লঞ্চে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে আমরা আশানুরূপ যাত্রী নিয়েই ঢাকা ছাড়তে পারছি। এবার যাত্রীর চাপ আছে। তবে আগের মতো উপচে পড়া ভিড় নেই।
লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এবার আর গত ঈদের মতো যাত্রীর ভাটা পড়েনি। এবার ঈদযাত্রার শুরু থেকেই যাত্রীর চাপ রয়েছে। সোমবার থেকে সব রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীর চাহিদা থাকলে বিশেষ ট্রিপের ব্যবস্থাও করা হতে পারে। লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও কম ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এদিকে বাসভাড়া লঞ্চের দ্বিগুণ। এই কারণেও লঞ্চে যাত্রী বেড়েছে। ঢাকা নদী বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক কবির হোসেন জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গত বছর ঈদযাত্রায় দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটে ৬৪টি লঞ্চ প্রতিদিন টার্মিনাল ছেড়েছে। তবে যাত্রী কমে যাওয়ায় এ বছর ৪৬টি লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রিপের ব্যবস্থা থাকবে।
কমেন্ট বক্স