সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

করোনার পর এবার ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডায়রিয়া

  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০৩-২০২২ ইং
করোনার পর এবার ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডায়রিয়া

সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনার পর এবার দেশে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৩ ভাগ রোগীর শরীরে কলেরা জীবাণু পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোনা থেকে আক্রান্ত রোগী ঢাকায় আনার পথে অ্যাম্বুলেন্সে মারা গেছেন। রাস্তায় রাস্তায় যানজটের কারণে ওই রোগী অ্যাম্বুলেন্সে মারা যান বলে জানা গেছে।
মহাখালী আইসিডিডিআরবি সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। গতকাল শনিবার ছুটির দিনেও দুপুর ২টা পর্যন্ত মহাখালী ডায়রিয়া হাসপাতালে ৬৯৫জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা লাগামহীনভাবে বাড়ছে। বাড়তি রোগীদের হাসপাতালের বারান্দায় ও আশপাশের খালি জায়গায় বিছানা ও তাঁবু খাটিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শতকরা ২৩ ভাগ রোগী কলেরায় আক্রান্ত। তাদের শরীরে ভিবরিও কলেরা জীবাণু পাওয়া গেছে। সঙ্গে অন্য ব্যাকটেরিয়া জীবাণুও রয়েছে। সম্প্রতি নেত্রকোনা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ডায়রিয়া রোগী ঢাকায় আনার পথে যানজটের কবলে পড়েন। তখন পথে রোগীর মৃত্যু হয়। যানজটের কবলে পড়ে পথে ২/৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতালে মৃত্যুর খবর জানা যায়নি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইসমেত নিগার মুঠোফোনে জানান, প্রচন্ড গরম ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হচ্ছে। এটা একধরনের ব্যাকটেরিয়া। বর্তমান আবহওয়া এ জীবাণু ছড়ানোর জন্য উপযুগী। তিনি বলেন, সুয়ারেজ লাইন ও খাবার পানির লাইনে ত্রুটিসহ নানা কারণে পানি দূষিত হয়। দূষিত পানি পান করে অনেকেই আক্রান্ত হছে। খাওয়ার পানি, থালা-বাসন জীবাণুমুক্ত না হলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সময় মতো হাত ধোয়া, খাবার পানি নিরাপদ নিশ্চিত করার পর পান করার জন্য এ বিশেষজ্ঞ মতামত দেন। এ বিশেষজ্ঞের মতে, সাধারণত এপ্রিলে ডায়রিয়া বাড়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এ বছর আগে বেড়ে গেছে। বর্তমানে কলেরা জীবাণু বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাই সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে নিরাপদ পানি পান করতে হবে। ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. দেবব্রত বনিক জানান, ডায়রিয়া সাধারণত পানিবাহিত রোগ। ব্যাকটেরিয়া থেকে গরমে এ রোগ ছড়ায়।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ডা. আবদুল গফ্ফার জানান, ডায়রিয়ার উৎস চিহ্নিত করা দরকার। উৎসস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব প্রফেসর ডা. এমএ আজিজ জানান, ডায়রিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ জন্য মা ও বাবাকে সতর্ক থাকতে হবে। আর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক (আরপি), মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিঃবিভাগে শিশু ডায়রিয়া রোগীর চাপ বাড়ছে। বেশির ভাগ শিশু রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত। ই-কলাই ব্যাকটেরিয়া, ভিবরিও কলেরি ব্যাকটেরিয়াসহ নানা ধরনের জীবাণুতে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে।
ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডা. জাহাঙ্গীর আলম ফোনে জানান, শিশু ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। তার মতে, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন পর দেশে স্কুল খুলেছে। স্কুলের সামনে ফুটপাতে বা আশপাশে শিশুরা খাবার যাতে কিনে না খায়। আর বাসা থেকে যাতে ফুটানো পানি স্কুলে নিয়ে যায় সেদিকে বাবা মা’কে লক্ষ্য রাখতে হবে। এছাড়া বিশুদ্ধ খাবার খেতে হবে। বাহিরে বেশিক্ষণ রাখা খাবার না খাওয়া ভালো। দরকার হলে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করে খেতে হবে। সব সময় হাত ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে বলে এ বিশেষজ্ঞ মনে করেন। এছাড়া বেশি ভিড়ের মধ্যে শিশুরা যাতে না যায় তার জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এ বিশেষজ্ঞ।
অভিযোগে রয়েছে, প্রচন্ড গরমে রাস্তায় ফুটপাতে বিক্রি করা তরমুজ, পেপের জুস, বেলের শরবতসহ অন্য খাবার দরিদ্র জনগণ পান করে। সেখানে তৈরি করা শরবতে ধুলাবালি ও জীবাণু থাকে। যা থেকে অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বস্তির ও দরিদ্র লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়রিয়া রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণে খাবার স্যালাইন সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী