সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পতনের মুখে কিয়েভ

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৩-২০২২ ইং
পতনের মুখে কিয়েভ

রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশে সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র; খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ার শঙ্কা জাতিসঙ্ঘের

সমীকরণ প্রতিবেদন:

রুশ সেনাদের বিশাল বহর কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের চার দিক ঘিরে অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাপক হামলাও চালাচ্ছে তারা। কিয়েভের খুব কাছে পৌঁছে গেছে রাশিয়ার সেনা বহর। বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়ও গুলি ছুড়ছে আগ্রাসী সেনারা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাক্সার টেকনোলজিস প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের অন্যান্য কয়েকটি শহর ঘিরে রাখা রুশ বাহিনী সেখানে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ম্যাক্সার টেকনোলজিসের চিত্রে দেখা গেছে কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমে বেশ কয়েকটি জায়গায় আগুনের ছবি। ইউক্রেনের হোস্টোমেলের আন্তোনোভ বিমানবন্দরে আগুন দেখা গেছে। আরেকটি স্যাটেলাইট চিত্রে ম্যাক্সার জানিয়েছে, আমরা কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমে মোসচুনে বাড়িঘর জ্বলতে দেখেছি। স্যাটেলাইট কোম্পানির দাবি, ছবিতে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমে শহরজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলোও দেখা সম্ভব। গতকাল শনিবার বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সাঁজোয়া যান, ট্যাংক ও কামান নিয়ে কিয়েভের পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে রুশ সেনাদের দেখা গেছে। কিয়েভের উত্তরে রুবিয়াঙ্কা শহরের কাছেও তাদের দেখা যায়। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে রুশ সেনাদের একটি বহর রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। বিবিসি বলছে, কিয়েভের আশপাশে প্রচণ্ড গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ইউক্রেনের রাজধানীর আশপাশে লড়াই অব্যাহত আছে। শহরের প্রশাসন বলেছে বুচা, ইরপিন ও হোস্টোমেলের পাশাপাশি কিয়েভের আরো উত্তরে ভিশোরোদ জেলাসহ উত্তরের অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। শহরের পূর্বে, ডিনিপার নদীর ওপারে ব্রোভারিতেও লড়াই চলছে। এ দিকে রুশ হামলার ১৭তম দিনে গতকাল শনিবার সকালে ইউক্রেনের কিয়েভ, লাভিভ, খারকিভ ও চেরকাসিসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে বিমান হামলাজনিত সতর্কতা সঙ্কেত বাজতে শোনা যায়। গত শুক্রবার দিবাগত রাতেও কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়, যা শনিবার ভোর পর্যন্ত চলে। তবে রাশিয়ার আগ্রাসনের তৃতীয় সপ্তাহে এসে যুদ্ধ এখন একটি ‘কৌশলগত টার্নিং পয়েন্টে’ পৌঁছেছে বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্তব্য করেছেন।

ইউক্রেনের জন্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চান না বাইডেন : ইউক্রেনে মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুক্রবার এক ঘোষণায় তিনি বলেন, ইউক্রেনে আমরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবো না। ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে একটি সরাসরি সঙ্ঘাত মানেই হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করা। এ খবর দিয়েছে টেলিগ্রাফ। খবরে জানানো হয়, ইউক্রেনের জন্য না লড়লেও ন্যাটোর জন্য লড়ার কথা জানিয়েছেন বাইডেন। তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ন্যাটোর সব শক্তি দিয়ে ও দ্রুততার সাথে আমরা ন্যাটোর প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করব। এর আগেও রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ না করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত মাসে তিনি জানিয়েছিলেন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা একে অপরের দিকে গুলি ছুড়লে, তা হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বক্তব্যে বাইডেন বলেন, ন্যাটো একটি ‘একক জোট’, এ কারণে রাশিয়ার সীমান্তে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

লুহানস্ক অঞ্চলের বেশির ভাগ রুশ দখলে : ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের বেশির ভাগ এখন রাশিয়ার দখলে বলে জানিয়েছেন সেখানকার গভর্নর। এ বিষয়টিতে এখন বিব্রতকর অবস্থায় আছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে রাশিয়ার কাছে হারিয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনবেন তিনি। শনিবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আলজাজিরা। ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক গভর্নর সেরহি হাইদাই বলেন, ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের ৭০ ভাগ এলাকা এখন রাশিয়ার দখলে চলে গেছে। এখন যে সামান্য অঞ্চলটি ইউক্রেনীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে তাতে অব্যাহত গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। এ কারণে এখানকার অসংখ্য মানুষ হতাহত হচ্ছে।

উচ্চপদস্থ রুশ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি ইউক্রেনের : যুদ্ধে এক উচ্চপদস্থ রুশ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল আন্দ্রেই কোলেশনিকভকে হত্যা করেছে। তবে কিভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি। বিবিসি জানিয়েছে, মেজর জেনারেল আন্দ্রেই কোলেসনিকভ ছিলেন রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক বিভাগের ২৯তম বাহিনীর কম্যান্ডার। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা তার নিহতের খবর নিশ্চিত করলেও রাশিয়ার তরফ থেকে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এর আগেও দুই রুশ কর্মকর্তাকে হত্যার দাবি করেছে ইউক্রেন। ফলে যুদ্ধে রাশিয়ার অর্জন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : ইউক্রেনসহ মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহের গতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে উদ্যোগী হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই মিত্রদের কাছ থেকে এ-সংক্রান্ত আবেদন বাড়ছে। ফলে নতুন অস্ত্র বিক্রির বর্ধিত চাহিদা এবং মার্কিন মিত্রদের কাছ থেকে অস্ত্র হস্তান্তরের অনুরোধের প্রতিক্রিয়া জানাতে কাজ করছে একটি বিশেষ ‘রেপিড রেসপন্স টিম’। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিষেধাজ্ঞায় না তুরস্কের : সামরিক জোট ন্যাটোর চাপ সত্ত্বেও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে সম্মত নয় তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিনকে উদ্ধৃত করে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি এ খবর দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে রাশিয়ার সাথে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবে তুরস্ক। টিআরটি হাবের বরাতে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা নেই তুরস্কের। কালিন বলেন, তুরস্ক সরকার আস্থার পথ খোলা রাখতে উন্মুখ।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা : ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে তার সর্বশেষটিতে রুশ ধনকুবের ভিক্টর ভেকসেলবার্গ, প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মুখপাত্রের পরিবারের তিন সদস্য এবং একাধিক আইনপ্রণেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ওয়াশিংটন এ নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। শুক্রবারের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যারা পড়েছেন তাদের মধ্যে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ভিটিবি ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের ১০ জন এবং রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দুমার ১২ সদস্যও আছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। মার্চের শুরুর দিকেই পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। শুক্রবারের নিষেধাজ্ঞায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুই শতাধিক পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার : ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। রুশ অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাবও শুরু হয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে রাশিয়াও। এরই অংশ হিসেবে দুই শতাধিক পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রুশ প্রশাসন। এক বিজ্ঞপ্তিতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার জন্য একটি তালিকা অনুমোদন করেছে সরকার। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিক্যাল সরঞ্জাম, যানবাহন, কাঠ, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, টারবাইন, পাথর কাটার মেশিন, কনসোল, সুইচবোর্ড, ধাতু, প্রজেক্টর, কৃষিপণ্য, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামাল। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে, রাশিয়ার সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন বা ইএইইউ, আবখাজিয়া, দক্ষিণ ওসেটিয়ার সদস্য দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশে এসব পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

জীবাণু অস্ত্র নিয়ে রাশিয়া ও জাতিসঙ্ঘের বিপরীত মন্তব্য : জাতিসঙ্ঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্রের চিহ্ন সরিয়ে ফেলার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে রুশ বাহিনী। নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া দাবি করেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনে কমপক্ষে ৩০টি গবেষণাগারের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে খুবই বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। তবে নেবেনজিয়া তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। অন্য দিকে জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, ইউক্রেন জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচি চালাচ্ছে বলে রাশিয়া যে অভিযোগ করেছে, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি তারা। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জাতিসঙ্ঘের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক প্রতিনিধি ইজুমি নাকামিৎসু এসব কথা বলেছেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোও রাশিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর আলজাজিরার।

জেলেনস্কির সাথে বাইডেনের দীর্ঘ ফোনালাপ : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সাথে শুক্রবার টেলিফোনে দীর্ঘসময় কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পাক্কা ৪৯ মিনিটের ওই কথোপকথনে তিনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন, রাশিয়াকে সাজা দিতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বাইডেন-জেলেনস্কি এর আগে যতবার ফোনে কথা বলেছেন, সেগুলোর স্থায়িত্ব ছিল বড়জোর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। কিন্তু শুক্রবারই তারা সবচেয়ে বেশি সময় কথা বলেছেন। এ সময় বাইডেন জেলেনস্কিকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন আক্রমণের কারণে ক্রেমলিনকে সাজা দিতে রাশিয়ার সাথে স্বাভাবিক বাণিজ্য সম্পর্কও স্থগিত করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা জাতিসঙ্ঘের : ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম ৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে এবং তার ফলে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যাও ব্যাপক বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। তারা বলেছে, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে ফসল চাষ অনিশ্চিত ও নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার খাদ্য রফতানিতে সংশয় উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে এফএও। সংস্থাটির তথ্যমতে, রাশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম বড় গম রফতানিকারক, এ ক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থান পঞ্চম। এ দু’টি দেশ বিশ্বে যব সরবরাহের ১৯ শতাংশ, গমের ১৪ শতাংশ ও ভুট্টার ৪ শতাংশ জোগান দেয়। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য রফতানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসে রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন এবারের মৌসুমে ফসল তুলতে পারবে কি না তা নিয়ে যেমন সংশয় রয়েছে, তেমনি নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার খাদ্য রফতানিও অনিশ্চিত।

রুশ সীমান্তে ১২ হাজার সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়ার সাথে সীমান্তবর্তী লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া ও রোমানিয়ায় ১২ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার হাউজ ডেমোক্র্যাটিক ককাসে দেয়া ভাষণে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেছেন। একই সাথে তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধে জয়ী হবেন না রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। খবর এনডিটিভির।

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামকে ‘উগ্রপন্থী’ ঘোষণা রাশিয়ার : ইউক্রেনে সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অভিভাবক কোম্পানি ‘মেটা’ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ‘মেটা’কে একটি ‘উগ্রপন্থী সংস্থা’ হিসেবে ঘোষণা এবং রাশিয়ায় এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য আবেদন করেছে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের দফতর। এ ছাড়া রাশিয়ায় ইনস্টাগ্রামের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পরিকল্পনাও করছে রাশিয়া। খবর বিবিসির। গত সপ্তাহে মেটা এক বিবৃতিতে জানায়, সামাজিক মাধ্যমে সহিংস বক্তব্যের ব্যাপারে তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনছে। যাতে কিছু দেশের লোকদেরকে রুশ বাহিনীর প্রতি সহিংস মনোভাব প্রকাশের সুযোগ দেয়া যায়। তবে তা রুশ বেসামরিক জনগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থাগুলোর বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের পথ বন্ধ করে দিয়েছে সার্চ জায়ান্ট গুগল। এ ছাড়া রাশিয়ার চ্যানেলের বিজ্ঞাপনী কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইউটিউব। ফলে রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘আরটি’সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ইউটিউব চ্যানেল বিজ্ঞাপনী আয় থেকে বঞ্চিত হবে। পশ্চিমা বিশ্বের ৩১০টি কোম্পানি রাশিয়ায় নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

মহাকাশ স্টেশন থেকে সরে যাওয়ার হুমকি রাশিয়ার : ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার জবাবে এবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। রুশ মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান দিমিত্রি রোগোজিন শনিবার এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা দেন বলে জানায় এএফপি। বিবৃতিতে রোগোজিন বলেন, ‘পশ্চিম যদি শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার না করে, সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সরাসরি সেসবের প্রভাব পড়বে।’ ১৯৯৮ সালে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান, কানাডা ও ইউরোপের ১১টি দেশের যৌথ প্রকল্প। মহাকাশ স্টেশনের যে অংশটির দায়িত্বে রাশিয়া রয়েছে, সেটি স্টেশনটির পৃথিবীর কক্ষপথে থাকার ব্যাপারটি দেখভাল করে। যদি হঠাৎ রাশিয়া তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, সেক্ষেত্রে ৫০০ টন ওজনের এই স্টেশনটির ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী