ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালী সাপ্তাহিক হাটে ভিক্ষা করার ধরনে দেখা দিয়েছে নতুনত্ব। চার-পাঁচজন মিলে একসঙ্গে ১০ টাকা করে চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতি সপ্তাহের রোববার ও বৃহস্পতিবার হাটের দিনে বিপুলসংখ্যক ভিক্ষুকের আগমনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের সামলাবেন, নাকি ভিক্ষুকদের টাকা দেবেন- এ নিয়ে রীতিমতো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সপ্তাহের দুই হাটের দিনে আসমানখালী বাজারে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন ভিক্ষুকের সমাগম ঘটে। তাঁদের মধ্যে আশপাশের এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেকে আসেন। কেউ একা, আবার কেউ চার-পাঁচজনের দল বেঁধে দোকানে দোকানে ঘুরে ভিক্ষা চান। এমনকি পাঁচজন মিলে একসঙ্গে ১০ টাকা দেওয়ার কথাও বলেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাপ্তাহিক হাটের দিনে বাজারে ক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এসময় দোকানে পণ্য বিক্রি, ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ ও হিসাব-নিকাশ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে একের পর এক ভিক্ষুক দোকানে এসে টাকা চাইলে ব্যবসায়িক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। একজন-দুজন অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করতে আপত্তি না থাকলেও দলবদ্ধভাবে ভিক্ষা চাওয়ার কারণে তাঁরা বিব্রত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘হাটের দিন ব্যবসা সামলাতেই আমাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। এর মধ্যে ভিক্ষুকেরা একের পর এক দোকানে আসেন। তখন ক্রেতাকে মাল দেব, নাকি তাঁদের ভিক্ষা দেব- সেটাই বুঝে উঠতে পারি না। চার-পাঁচজন একসঙ্গে এসে ১০ টাকা চাইলে অনেক সময় ভাংতি টাকার সমস্যাও হয়।’
ভিক্ষা করতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের কেউ কেউ বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেনে করে আসমানখালী বাজারে আসেন। তাঁদের মধ্যে একজনের বাড়ি ঈশ্বরদী এবং অন্য একজনের বাড়ি ঝিনাইদহে বলে জানা গেছে। ভিক্ষুক হাসিবুল বলেন, ‘আমি মায়ের পেট থেকেই অন্ধ। চোখে দেখতে পাই না, কাজও করতে পারি না। তাই ভিক্ষা করে জীবিকা চালাই। কিন্তু এই বাজারে অনেক সুস্থ-সবল মানুষও ভিক্ষা করতে আসেন। তাঁদের কারণে আমরা যারা প্রকৃত অসহায়, তারা অনেক সময় ভিক্ষা পাই না।’
এদিকে, ব্যবসায়ীরা মনে করেন, প্রকৃত অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক দায়িত্ব। তবে অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন দলবদ্ধভাবে দোকানে দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বিরক্ত করতে না পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও জানান, হাটের দিনে ভিক্ষুকদের এমন ভিড়ের কারণে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, ক্রেতারাও অনেক সময় অস্বস্তিতে পড়েন। তাই প্রকৃত অসহায় ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা এবং বাজারে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
আসমানখালী বাজারের ব্যবসায়ীরা এ পরিস্থিতি নিরসনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, মানবিকতা বজায় রেখেই ভিক্ষার নামে হয়রানি ও দলবদ্ধভাবে টাকা চাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
