ছবির ক্যাপশন:
জমি দখল, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার সুলতানপুর গ্রামের আনারুল ইসলাম। পৈতৃক ও ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমি ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে গেলেও এখনো জমির দখল বুঝে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে জীবননগর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন আনারুল ও তাঁর পরিবার। নিজ গ্রামে ফিরে নিরাপদে বসবাস এবং জমির দখল ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
আনারুল ইসলাম দর্শনার সুলতানপুর গ্রামের মৃত ইসাহাক দফাদারের ছেলে। তাঁর অভিযোগ, সুলতানপুর ও ঝাঁঝাডাঙ্গা এবং কামারপাড়া মৌজায় তাঁদের পৈতৃক ও ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এসব জমির মধ্যে ঝাঁঝাডাঙ্গা মৌজায় ১১ বিঘা এবং কামারপাড়া ২০ নম্বর মৌজার ২৪৪ দাগে ৭ বিঘা ৬০ শতক জমি রয়েছে। তাঁর দাবি, চাচাতো ভাইয়েরা ঝাঁঝাডাঙ্গা গ্রামের মতিয়ার রহমানের কাছে ৫ বিঘাসহ আরও কয়েকজনের কাছে প্রায় ১৮ বিঘা জমি বিক্রি করেন। এর মধ্যে তাঁদের পরিবারের প্রাপ্য ৭ বিঘা ৬০ শতক জমিও রয়েছে।
আনারুল জানান, এসব জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলেছে। ২০০৭ সালের ১৮ নভেম্বর মামলায় তাঁদের পক্ষে প্রাথমিক ডিক্রি হয়। একই বছরের ১২ আগস্ট স্বাক্ষরনামা সম্পন্ন হয় বলেও তিনি জানান। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালের ১৩ এপ্রিল ভূমি কমিশনারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্কেচ ম্যাপ তৈরি করা হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে ৩ ও ৪ নম্বর জারি মামলায় চূড়ান্ত দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশও পান বলে দাবি তাঁর।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ২১ জুন ১৪৩ ধারায় করা মিস মামলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২৮৪৮, ১২৮৫০, ১৩১৯৯ ও ১৩১৯৬ নম্বর মামলার বিপরীতে ভূমি অফিস থেকে ডিসিআর কেটে খাজনা পরিশোধ করেছেন। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের খাজনাও নিয়মিত দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এতসব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও জমির বাস্তব দখল বুঝে পাননি।
আনারুলের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর এবং তাঁর ছোট ভাই, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মনসুর বাবুর প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ গ্রামে ফিরতে পারছেন না। তাঁদের ভয়ে এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রায় ১৭ বছর আগে গ্রাম ছেড়ে জীবননগরের নারায়ণপুর এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এ সময় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আনারুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। আদালতের রায় পেয়েছি, নিয়মিত খাজনাও দিচ্ছি। কিন্তু এখনো নিজের জমিতে যেতে পারছি না। নিরাপত্তার অভাবে নিজ গ্রামেও ফিরতে পারছি না। আমি আমার জমি ফিরে পেতে চাই এবং পরিবার নিয়ে নিজ গ্রামে নিরাপদে বসবাস করতে চাই।’
বর্তমানে দেশে জনবান্ধব সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে উল্লেখ করে আনারুল ইসলাম প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁর দাবি, জমির কাগজপত্র ও আদালতের আদেশ যাচাই করে তাঁকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া এবং পরিবারসহ নিজ গ্রামে নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
