ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার সুলতানপুর গ্রামে পৈতৃক ও ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমি জবরদখল, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর, তাঁর ছোট ভাই ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মনসুর বাবু এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এ এম জাকারিয়া আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার কারণে প্রায় ১৭ বছর ধরে নিজ গ্রাম ছেড়ে জীবননগর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় বসবাস করছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মো. আনারুল ইসলাম।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে দর্শনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুলতানপুর গ্রামের মৃত ইসাহাক দফাদারের ছেলে আনারুল ইসলাম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে আনারুল ইসলাম জানান, সুলতানপুর ও কামারপাড়া মৌজায় তাঁর ও ছয় বোনের নামে থাকা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁদের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন। জমি উদ্ধারের চেষ্টা করেও প্রতিকার না পেয়ে এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি গ্রাম ছেড়ে জীবননগরের নারায়ণপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
আনারুলের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো ও নির্যাতন করা হয়েছে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় নিজ বসতভিটা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন নিজের জমিজমা ও গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় আর্থিক ও মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আনারুল জমিসংক্রান্ত একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বিভিন্নআদালতে মামলা পরিচালনা এবং রায় পাওয়ার পরও জমির দখল ফিরে পাননি। সংশ্লিষ্ট দলিল ও আদালতের নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টি পুনরায় তদন্ত এবং দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি।
একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আনারুল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তাঁকে নিজ গ্রাম ও বসতভিটা থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। জমি ফিরে পেয়ে নিরাপদে নিজ এলাকায় বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস এ এম জাকারিয়া আলম বলেন, ‘আনারুল ইসলামের জমিসংক্রান্ত বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। মামলা-মোকদ্দমার বিষয়েও জানি না। তিনি কেন আমার নাম উল্লেখ করেছেন, তা বুঝতে পারছি না।’ অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
