ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা শহরের কবরী রোডসংলগ্ন মোহাম্মদ ড্রাগ হাউজ নামে একটি ভেটেরিনারি ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে ২৫টি ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশ এ তল্লাশি চালায়। ফার্মেসির মালিক মো. আব্দুর রাজ্জাক (৫৬) কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। তবে এ ঘটনায় মামলা না হওয়া এবং কাউকে আটক না করায় সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফার্মেসিতে তল্লাশির সময় দোকানের কাঠের ডেস্কের ওপর রাখা একটি মিনি ক্যালেন্ডারের ভেতর থেকে লুকানো অবস্থায় ২৫টি ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। দোকানমালিক আব্দুর রাজ্জাক চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ডিজিটাল মোড়ের থানা কাউন্সিলপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মাখালডাঙ্গার মৃত কলম আলী বিশ^াসের ছেলে।
ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর সঙ্গে দোকান মালিকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ বিষয়ে দোকান মালিককে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, ‘বিষয়টি পরিকল্পিত হতে পারে। তবে এ নিয়ে তদন্ত চলছে। কেউ এমনটি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘অভিযানে যে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে, তা অথেনটিক নয়। এবং ঘটনাটি সাজানো, নাকি দোকান মালিক এর সঙ্গে জড়িত, তাও নিশ্চিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিযান পরিচালনার সময় আমরা জানতাম না যে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা। মাদকের বিষয়টি এবং তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।’
এদিকে, পুলিশ তল্লাশিতে ইয়াবা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের দাবি করলেও এখন পর্যন্ত মামলা না হওয়া কিংবা কাউকে আটক না করার বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া বস্তু ইয়াবা। তবে পুলিশের দাবি সেগুলো ইয়াবা সদৃশ বস্তু। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন বিষয়টি টক অব দ্যা টাউন।
