চুয়াডাঙ্গায় যুব উন্নয়ন দপ্তরে বাগবিতণ্ডা, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

উভয় পক্ষের মিশ্র বক্তব্য, সচেতন মহলে আলোচনা

আপলোড তারিখঃ 2026-10-15 ইং
চুয়াডাঙ্গায় যুব উন্নয়ন দপ্তরে বাগবিতণ্ডা, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গায় জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহমুদা খাতুন এবং স্থানীয় এনজিও ‘পল্লী উন্নয়ন সংস্থা’ (পাস)-এর নির্বাহী পরিচালক ও দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার ডিঙ্গেদহ প্রতিনিধি ইলিয়াস হোসেনের মধ্যে এক বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। দপ্তর কার্যালয়ে ঘটা এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও নানামুখী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।


সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য ও প্রকৃত ঘটনা জানতে সরেজমিনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কার্যালয়ে যায় ‘দৈনিক সময়ের সমীকরণ’। এ বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান ও উপ-পরিচালক মাহমুদা খাতুন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘আমার যা সম্মান যাবার চলে গেছে। এখন আর আমার কিছু বলার নেই।’


ঘটনার বিষয়ে কার্যালয়ের অন্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ইলিয়াস হোসেন তাঁদের দপ্তরের নিবন্ধিত একটি যুব সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবেই সেখানে এসেছিলেন, সংবাদকর্মী হিসেবে নয়। তিনি জানান, ইলিয়াস হোসেনের সংগঠন ‘পল্লী উন্নয়ন সংস্থা’ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি অনুদান বা ভাতা পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠানকে বারবার অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই।


উক্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইলিয়াস হোসেন দপ্তরে এসে অন্যায্য দাবি জানান এবং শুরুতে উগ্র আচরণ করে টেবিলে চাপড় দিয়ে কথা বলেন। কর্মকর্তা বা দপ্তরের প্রধানকে অসম্মান করে কথা বলার পর বাধ্য হয়ে উপ-পরিচালক উচ্চস্বরে কথা বলেন। ইলিয়াস হোসেন সংবাদকর্মী হিসেবে সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন না এবং তিনি যে সাংবাদিক, তাও দপ্তর কর্তৃপক্ষের জানা ছিল না বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।


অন্যদিকে, পল্লী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইলিয়াস হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নিজের বক্তব্যে আলাদা ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উদ্যাপনের প্রস্তুতি সভার কথা বলে তাঁকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। যুব উন্নয়ন দপ্তরের কার্যক্রম ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি নিজের সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে ওই সভায় অংশ নেন।


ইলিয়াস হোসেনের মতে, উপ-পরিচালক কুশল বিনিময়ের একপর্যায়ে পূর্বতন উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলেন এবং সাবেক কর্মকর্তাকে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় সরকারি প্রোটকল মেনে ‘স্যার’ ডাকার নির্দেশ দেন। সেখান থেকেই মূলত কথা-কাটাকাটির সূত্রপাত হয়।


এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটিতে শুধুমাত্র উপ-পরিচালকের হাত নাড়া ও চিৎকার করার চার সেকেন্ডের একটি অংশ ফুটে উঠেছে। সেখানে একপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া গেলেও অপরপক্ষের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য চলায় বিষয়ের সুনির্দিষ্ট নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কোনো একটি মাত্র বিচ্ছিন্ন ভিডিও বা একতরফা বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কাউকেই সামাজিক মাধ্যমে হেয় করা অনুচিত; বরং উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সত্য বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। একই সাথে, সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং যুব সংগঠনের প্রতিনিধি বা সংবাদকর্মী- উভয় পক্ষের কাছ থেকেই সর্বদা সংযত, পেশাদার ও মার্জিত আচরণ প্রত্যাশিত।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)