ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বাস-ইজিবাইক চলাচল নিয়ে বিরোধ নিরসন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কলেজের সামনের অবৈধ দোকানপাট, হাসান চত্বরের বর্তমান পরিস্থিতি, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কেউ আইন অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের দায়িত্ব পালন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীরা দাবি জানানোর পর শুধু সেই দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়াকে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরিবহন খাতের বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বাস ও ইজিবাইক মালিক সমিতির সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুবিধা ও ভোগান্তির বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনোভাবেই যেন যাত্রীরা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, অতীতে একজন সাংবাদিকের উদ্যোগে একজন জেলা প্রশাসক সেখানে গিয়ে ওই সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন। এরপর সেখানে অনেক দোকান গড়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, জেলা প্রশাসক নিজে গিয়ে কোনো স্থাপনা উদ্বোধন করলে পরবর্তী সময়ে সেটি উচ্ছেদ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে তিনি যাননি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার হাসান চত্বরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, স্থানটি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। চত্বরটি উচ্ছেদের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি তাঁকে সামাল দিতে হয়েছে। বর্তমানে সেখানে এক পাশ থেকে দোকান সরিয়ে অন্য পাশে বসানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশাসনকে অর্থ দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গও সভায় তোলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই এমন মন্তব্য দেখা যায় যে বাস ধর্মঘট বা দোকানপাটের বিষয়ে প্রশাসনকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হচ্ছে। কিন্তু কে, কোথায় এবং কাকে টাকা দিচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয় না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসন যদি সবকিছু অর্থের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় টাকায় ভাসছে? এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনের ভ্রাম্যমাণ দোকানপাটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে পণ্য বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি স্থানে স্থায়ীভাবে বসে থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবতে হবে।
তাঁর ভাষ্য, দোকানগুলোর আশপাশে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর সেখানে মাদক কেনাবেচা ও লোকজনের আনাগোনার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। এসব কারণে কলেজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এলাকাটি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের একার পক্ষে কোনো উদ্যোগ টেকসই করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিলে ওই এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে।
সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক উজ জামান, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিসান আহম্মেদ। এছাড়া বিজিবি, র্যাব ও আনসার বাহিনীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
