ছবির ক্যাপশন:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে আলমডাঙ্গায় ‘নজরুলবর্ষ’ পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কবির গান, কবিতা ও সাহিত্যকর্মকে কর্মজীবী মানুষের জীবন ও মননের সঙ্গে যুক্ত করার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতি সভা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ‘নজরুলবর্ষ’ বাস্তবায়নে একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। এতে আলমডাঙ্গা কলা কেন্দ্রের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইকবাল হোসেনকে আহবায়ক এবং সাংবাদিক-সাহিত্যিক রহমান মুকুলকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিতে প্রতিফলিত মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনাকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, নজরুলের চেতনা শুধু বইয়ের পাতায় কিংবা সাংস্কৃতিক মঞ্চে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টির সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন, শ্রম, অধিকার, স্বপ্ন ও সংগ্রামের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই উপলব্ধি থেকেই ‘নজরুলবর্ষ’কে জনসম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফের উদ্যোগে নেওয়া এ কর্মসূচিকে সংস্কৃতি চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করেন উপস্থিতরা।
আলমডাঙ্গা কলা কেন্দ্রের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইকবাল হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, চুয়াডাঙ্গা অরিন্দম সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কণ্ঠশিল্পী হিরন উর রশিদ শান্ত এবং চুয়াডাঙ্গা সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক।
প্রভাষক খাইরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব অমল কুমার বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাউলশিল্পী আব্দুল লতিফ শাহ, সাহিত্যিক আনোয়ারুল ইসলাম সাগর, গল্পকার পিন্টু রহমান, কবি গোলাম রহমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুশীল কুমার কর্মকার, নাট্যজন মিজানুর রহমান, বংশীবাদক খোকন মিয়া, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাহিদ হাসান, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান, হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মতিউল হুদা, সহকারী অধ্যাপক আসিফ জাহান, আলমডাঙ্গা মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুরাইয়া জেসমিন, হাটবোয়ালিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুজ্জামান লাকি, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এএসএম শাহজাহান ঝন্টু, সহকারী শিক্ষক মহসিন কামাল, তবিবুর রহমান ও সীমা সাহা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নোয়াজেশ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি আতিক বিশ্বাস এবং উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব পরিমল কুমার ঘোষসহ অনেকে।
সভায় ‘নজরুলবর্ষ’ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নজরুলসংগীতের বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব থাকবে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কর্মজীবী মানুষকে নিয়ে সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে নজরুল কেবল সাংস্কৃতিক মঞ্চের কবি হয়ে থাকবেন না; তাঁর গান ও কবিতার সঙ্গে যুক্ত হবেন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। কর্মব্যস্ত জীবনের ভেতর থেকেই তাঁরা আবিষ্কার করবেন নজরুলের সেই মানবিক সত্তাকে, যিনি সাম্যের কথা বলেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা দিয়েছেন।
আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলোÑনজরুলকে শুধু স্মরণ নয়, বরং তাঁর সৃষ্টিকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা। মানুষের মুখে মুখে তাঁর গান, কণ্ঠে তাঁর কবিতা এবং সামাজিক চেতনায় তাঁর মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিয়ে আলমডাঙ্গায় ‘নজরুলবর্ষ’কে একটি সর্বজনীন ও জনসম্পৃক্ত সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
