ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কৃষি ক্লাবপাড়ায় চয়ন (৪৫) নামে এক চপ, বড়া ও পেঁয়াজু বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, পরকীয়া সম্পর্ক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চয়নকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে অজ্ঞাত একটি ভ্যানে করে চয়নের মরদেহ আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
চয়ন হারদী কৃষি ক্লাবপাড়ার গদোর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় চপ, বড়া ও পেঁয়াজু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের ছেলে মারুফ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১৩ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা হেলাল ফোন করে তার বাবাকে আলমডাঙ্গার ওসমানপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেন। মারুফের দাবি- পরে হেলাল তাকে ফোন করে জানান, তার বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে। জমি-সংক্রান্ত টাকার জন্য আলমডাঙ্গা থেকে স্ট্যাম্প কিনে নিয়ে গেলে চয়নকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
মারুফ বলেন, ‘হেলাল আমার আব্বুকে ফোন করে তার শ্বশুরবাড়ি ওসমানপুরে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আমাকে ফোন দিয়ে বলে, তোমার বাবাকে আটকে রেখেছি। জমি-সংক্রান্ত টাকার জন্য আলমডাঙ্গা থেকে স্ট্যাম্প কিনে নিয়ে এসে তোমার বাবাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাও।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আলমডাঙ্গা থেকে স্ট্যাম্প কিনে ওসমানপুরের দিকে যাওয়ার পথে হেলাল আবার ফোন দেয়। তখন বলে, তোমার বাবা ঘরের ভেতরে গলায় দড়ি দিয়েছে। তোমার বাবাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। পরে বলে, তোমার বাবা মারা গেছে।’ এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মারুফ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, খবর পেয়ে তারা আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চয়নের মরদেহ দেখতে পান। তাদের দাবি, চয়নের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে তাদের সন্দেহ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হেলালের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার শ্বশুরবাড়ি আলমডাঙ্গা উপজেলার ওসমানপুরে বসবাস করছেন। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, হেলাল প্রবাসে থাকাকালে তার স্ত্রী লাবনীর সঙ্গে চয়নের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই চয়নের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করছে সূত্রগুলো।
তবে কথিত ওই সম্পর্কের বিষয়টি এবং এর সঙ্গে চয়নের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকে হেলাল ও তার স্ত্রী লাবনীকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তারা পলাতক রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।
চয়নকে ফোন করে ওসমানপুরে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও তার মৃত্যুর সঙ্গে হেলালের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। একইভাবে চয়নের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড- ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সেটিও নিশ্চিত নয়।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, চয়নের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর চয়নের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
