ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বুপ্রেনরফিন (Buprenorphine) অ্যাম্পুল ইনজেকশন রাখার দায়ে মো. জালাল মালিথা (৫১) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শিমুল কুমার বিশ্বাস এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত জালাল মালিথা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার রেলপাড়া (কানাপুকুর পাড়া) এলাকার মৃত আলতাফ হোসেন মালিথার ছেলে।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি আভিযানিক দল চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন একাডেমি মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৭৪৩৮ নম্বরের ‘সোনার তরী’ পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। বাস থেকে নামার পর মো. জালাল মালিথার হাতে থাকা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে ৮৯৯টি ক্ষতিকারক বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করে আভিযানিক দল। উদ্ধারকৃত এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা। ঘটনার দিনই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ৮(গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ৫৫/২০২১।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মোছা. সাহারা ইয়াসমিন ২০২১ সালের ১২ মে তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেন। বিচার চলাকালে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামিকে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন। রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামির প্রাক-বিচার হাজতবাসের সময়কাল সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক আপিল আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট সাইদ মাহমুদ শামিম রেজা ডালিম বলেন, জালাল মালিথার বিরুদ্ধে ৮৯৯টি অ্যাম্পুল ইনজেকশন উদ্ধারের ঘটনায় একটি মাদক মামলা হয়। মামলাটি বিচারিক কার্যক্রম শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই রায়ের মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গায় মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এ রায় দেখে মাদক কারবারিরা সতর্ক হবে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে আইনের কঠোর প্রয়োগের বার্তা পৌঁছাবে।
