ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত ও প্রাণবন্ত মুখ মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু। তরুণ বয়সেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন আস্থার একজন মানুষ। তবে হঠাৎ করেই থেমে যায় তার পথচলা। ঘুমের মধ্যেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের এই দিনে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে তার ভাইয়ের বাসায় ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে মারা যান মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু। তার মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গা বিএনপির নেতা-কর্মীসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া।
প্রয়াত এই নেতাকে স্মরণে আজ নানা কর্মসূচি নিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি। এর অংশ হিসেবে বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
এর আগে মৃত্যুবার্ষিকীর প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে শিপলুর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল হোসেন বিদ্যুতের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফ মালিক, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. নিলয় আহম্মেদ, ওল্টু হোসেন, ছাত্রদল নেতা বায়েজিদ, সাজিদ হাসান, বিপ্লব হোসেন, মো. শাহিন হোসেনসহ আরও অনেকে।
মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন শিপলু। এ অর্জন তার জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতারই প্রমাণ হিসেবে দেখেছিলেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।
তবে সেই সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ হয়নি। গত বছর ২ অক্টোবর মেডিকেল চেকআপের জন্য ঢাকায় যান তিনি। ধানমন্ডিতে তার ভাইয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে রাতে ঘুমের মধ্যেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার, স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাক্সক্ষীদের জন্য ছিল গভীর শোকের। সময় পেরিয়ে এক বছর হলেও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের স্মৃতিতে এখনো অমলিন মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু। মৃত্যুবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আজ আবারও স্মরণ করা হচ্ছে তার কর্মময় রাজনৈতিক জীবন ও নেতৃত্বের কথা।
