ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলায় এবার ১১৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে; কোথাও মৃৎশিল্পীরা তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন, আবার কোথাও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।
শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর মাঠের পাশে কাশফুলের দোলা জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। এরই সঙ্গে মহালয়ার মধ্যদিয়ে শুরু হবে দেবী দুর্গার আগমনী পর্ব। ঢাকের মৃদু বাদ্য আর পূজার প্রস্তুতিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন উৎসবের আবহ বিরাজ করছে।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সরজমিনে দেখা যায়, কোথাও মাটির প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, কোথাও বাঁশ-খড় দিয়ে মণ্ডপ তৈরির ব্যস্ততা। পাশাপাশি চলছে আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ। পূজার প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা।
চুয়াডাঙ্গা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার চার উপজেলায় মোট ১১৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৯টি, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩৩টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ২১টি এবং জীবননগর উপজেলায় ২৪টি মণ্ডপ রয়েছে।
বিভিন্ন পূজামণ্ডপে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মৃৎশিল্পীরা রাত-দিন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাটি, পাট, সুতা ও খড়সহ বিভিন্ন উপকরণে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা। এখন চলছে রং ও তুলির শেষ কাজ। মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততাও এখন বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে দিন-রাত কাজ করছেন তাঁরা। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপের কাঠামো প্রস্তুত, প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর পঞ্জিকা অনুযায়ী মহাসপ্তমী তিথি ১৭ ও ১৮ অক্টোবর, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় এবং গমন হবে নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে ঘিরেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
দুর্গোৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, আয়োজকদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। সব মিলিয়ে মহালয়ার আগমনী বার্তায় চুয়াডাঙ্গার পূজামণ্ডপগুলোতে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আবহ।
