ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আলমগীরকে জেলহাজত থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের নিকট ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কুড়ুলগাছি গ্রামের মতলবের ছেলে রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রানা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছাগল চোরের অভিযোগে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে আলমগীরসহ তিনজনকে এলাকাবাসীর মাধ্যমে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এ ঘটনার জের ধরে গত শুক্রবার কুড়ুলগাছি গ্রামের রানাসহ দুইজন জেল থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আলমগীরের ভাই ফেরদৌসের সাথে কথা বলতে আসেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- রানা ফেরদৌসকে বলেন, ‘তোরা কেমন উকিল ধরেছিস, এখনও আলমগীরকে ছাড়াতে পারিসনি। ম্যাজিস্ট্রেট আমার বন্ধু, দুই লাখ টাকা দিলে আলমগীরকে ছাড়িয়ে দিবো।’ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে গ্রামবাসী ধাওয়া করলে রানা মাটিতে পড়ে মাথা কেটে যায়। তার সাথে থাকা একজন পালিয়ে গেলে অপর একজনকে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করে গ্রামবাসী। পরবর্তীতে ফাঁড়িতে থাকা অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এদিকে, ভুক্তভোগী মামুনের অভিযোগ, চাঁদা দিতে রাজি না হলে রানা ও অজ্ঞাতনামা ২ জন তার মায়ের ছবি তুলতে শুরু করে। এ নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে রানা ও অজ্ঞাতনামা ২ জন মামুনকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে এবং তার পরিহিত টি-শার্টের বুক পকেটে থাকা নগদ ৫২ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেয়। এসময় মামুনের মা ফিরোজা, স্ত্রী আলপনা ও ভাইয়ের স্ত্রী রিশনা ঠেকাতে এলে তাদেরও বেধড়ক মারপিট করে জখম করা হয়।
অভিযুক্ত রানা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার ভাগ্নে আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে ছাগল চুরির ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু আলামত পাওয়া যায়। তখন ফেরদৌস আলী তাকে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য বলেন এবং একটি ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তিনি ছাগল চুরির ঘটনার আলামতের ভিডিও ধারণ করতে গেলে ফেরদৌসের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়। রানার দাবি, ভিডিও ধারণ করে ফেরার পথে গত শুক্রবার বেলা আনুমানিক তিনটার সময় বাঘাডাঙ্গা গ্রামস্থ রাইসা ভাটার পাশে একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো রামদা, লোহার রড ও জিআই পাইপ নিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তার মাথায় ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই সবুজ জানান, মারামারি ঘটনায় একজনকে হেফাজতে নেওয়া হলেও মামলা না হওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় কেউ মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরও নিয়মিত মামলা হয়নি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত রানা ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে দামুড়হুদা মডেল থানা-পুলিশ ফেরদৌস নামের একজনকে আটক করে।
