সুপারিশ পেয়েও মেলেনি নিয়োগপত্র, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না স্পষ্ট উত্তর

চুয়াডাঙ্গায় চরম অনিশ্চয়তায় ১৯ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগপ্রার্থী

আপলোড তারিখঃ 2026-09-28 ইং
সুপারিশ পেয়েও মেলেনি নিয়োগপত্র, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না স্পষ্ট উত্তর ছবির ক্যাপশন:

লিখিত ও ভাইভা উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার ১৯ জন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক প্রার্থী। নিয়োগ জটিলতার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তাঁরা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অপেক্ষার পরও জেলা প্রশাসক ভুক্তভোগীদের সাথে কোনো কথা বলেননি এবং তাদের স্মারকলিপিও গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।


ভুক্তভোগী প্রার্থীদের সূত্রে জানা যায়, ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫’-এর আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় চূড়ান্তভাবে ১০৫ জন প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে এর মধ্যে ৮৬ জনের অনুকূলে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিয়োগপত্র ইস্যু করা হলেও বাকি ১৯ জন প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত থেকে যান। চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পরও কী কারণে তাদের নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিস কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি নিয়োগ প্রার্থীরা।


নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীরা স্মারকলিপিতে সুনির্দিষ্ট ৫টি বিষয় জানার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- নিয়োগ আটকে রাখার কারণ স্পষ্টীকরণ, সংশ্লিষ্ট কোনো প্রজ্ঞাপন থাকলে তা প্রকাশ করা, কাগজপত্রের কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগদান এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণের স্মারক নম্বর অবহিত করা।


নিয়োগ বঞ্চিত হাজিরা খাতুন বলেন, “পহেলা অক্টোবর আমাদের নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। শিক্ষামন্ত্রী নিজে বলেছিলেন, ‘সবার নিয়োগ দেওয়া হবে, কাউকে বাদ দেওয়া হবে না।’ কিন্তু হঠাৎ যখন ওয়েবসাইটে নিয়োগ প্রকাশ করা হলো, তখন আমরা দেখি আমরা অনেকেই বাদ পড়ে গেছি। কিন্তু কী কারণে আমরা বাদ পড়েছি, সে বিষয়ে কোনো কিছুই জানতে পারিনি। আমরা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত। রিটেন, ভাইভা সব ক্লিয়ার করেছি, ভেরিফিকেশনও কমপ্লিট। তারপরও কেন এই ভোগান্তি, সেই উত্তর আমরা পাইনি।’


নিয়োগ বঞ্চিত তারেক হাসান বলেন, ‘আমাদের চুয়াডাঙ্গাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর চূড়ান্ত নিয়োগপত্রে মোট ৮৬ জনের নিয়োগপত্র আসে এবং বাকি ১৯ জনের নিয়োগপত্র আমরা পাইনি। আমরা শিক্ষা অফিসে গিয়েছিলাম কেন আমাদের নিয়োগপত্র আটকে গেছে, সে বিষয়ে জানতে। তবে এর কোনো সঠিক উত্তর পাইনি। তারা জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না, তারা বলেছে, মন্ত্রণালয় থেকে যা বলা হয়েছে, আমরা সেটাই করব। এছাড়াও ডিসি বরাবর স্মারকলিপি জমা দিতে এসে সেই সকাল থেকে দুপুর অবধি দাঁড়িয়ে থাকার পরেও জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেননি।’


নিয়োগ বঞ্চিত উজ্জ্বল কুমার পাল বলেন, ‘২০২৫ সালে আমরা সুপারিশপ্রাপ্ত হই। সর্বশেষ আমাদের নিয়োগপত্র আমাদের নামে ইস্যু হয়নি। কেন এই নিয়োগপত্র আমাদের নামে ইস্যু হয়নি, সেই উত্তরের জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি আমরা, কিন্তু কোনো উত্তর এখনো পাইনি। আমাদের সঙ্গে কোনো দপ্তর প্রধান কথা বলতে চাননি। আমরা কোন অপরাধে এ সাজা পাচ্ছি, সেটাই বুঝতে পারছি না।’


নিয়োগ বঞ্চিত মুস্তাকিমের মা ওমেহার বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে যে তার সবকিছু ঠিক থাকা সত্ত্বেও চাকরি হলো না। এ প্রশ্নের উত্তর জানতে ডিসি অফিসে আসলে ডিসি কথা না বলেই পালিয়ে যায়। আমার ছেলেটা অসহায়, সেই সকাল থেকে বসে আছে।’ তিনি বলেন, ‘মেধার কি কোনো দাম নেই? আমার ছেলেরা ডিসির পেছন পেছন দৌঁড়ে গেলেও ডিসি কোনো কথা না বলেই চলে যায়। কী এমন করেছে আমার ছেলেরা, যে ডিসি কথা না বলেই চলে গেলেন। আমার তো মনে হচ্ছে ডিসিই সবকিছু করেছে।’


এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, ‘নিয়োগ বঞ্চিতদের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে এটি সেন্ট্রাল সিদ্ধান্ত। আমি খুলনায় এসেছি জানার জন্য।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)