ছবির ক্যাপশন:
গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদারের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এখতিয়ার ও সুবিধা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য অনেক বিরোধও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ফলে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, মামলার তারিখে আদালতে উপস্থিতি, আইনজীবীর ফি, যাতায়াতসহ নানা ধরনের আর্থিক ও সামাজিক ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। এ কারণে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, গ্রাম আদালতের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করতে হবে। মানুষ যদি গ্রাম আদালতেরকার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারে, তাহলে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক বিরোধ গ্রামেই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে।
তিনি বলেন, আদালতে বিচারপ্রার্থীদের একটি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। মামলার ধার্য তারিখে বারবার আদালতে যেতে হয়। এর সঙ্গে আইনজীবীর খরচ, যাতায়াত ব্যয়সহ নানা ধরনের ব্যয় যুক্ত থাকে। সাধারণ মানুষকে এসব ভোগান্তি থেকে কিছুটা মুক্ত রাখার লক্ষ্যেই সরকার গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়েছে। গ্রাম আদালত তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী উদ্যোগ।
স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক আরও বলেন, গ্রাম আদালত অনধিক তিন লাখ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। ফলে ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে দূরের আদালতে না গিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক বিচারপ্রার্থীর ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে তথ্য পৌঁছে দিতে হবে।
সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তর, সামাজিক সংগঠন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, পোস্টার, মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের বিষয়ে জনগণকে অবহিত করার প্রস্তাব আসে।
সভায় গ্রাম আদালতের জেলা ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের কার্যক্রম ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। এসময় তিনি প্রকল্পের ওপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন। তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের এ সুবিধা সাধারণ মানুষ পাবে।
সভায় অংশীজনরা বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হলে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে সহজ ভাষায় গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, বিচারপ্রক্রিয়া ও সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক বাণী ইসরাইল, চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাজুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহমুদা খাতুন, জেলা তথ্য অফিসের এপিআই অপারেটর শাকিল উদ্দীন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জহির রায়হান, আশা কোর্ট রোড শাখার ব্যবস্থাপক অলোক বসু, ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ন রু¹া, সুবর্ণ মানবকল্যাণ সংস্থার জেলা প্রতিনিধি মিম্মা সুলতানা মিতা, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক আকবর, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম, যমুনা টিভির চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি জিসান আহমেদ, দৈনিক সময়ের সমীকরণের নিজস্ব প্রতিবেদক নাজমুল ইসলাম সামিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও অংশীজনরা।
