ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের কেদারনগর গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার পর গ্রামের নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে এসে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা চলে যান। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থানে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের যাতায়াতের সম্পর্ক রয়েছে।
অভিযুক্ত তিন যুবক হলেন- কেদারনগর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে রাজা আহাম্মেদ (২৭), খাইরুল ইসলামের ছেলে সাজিম হোসেন (২০) ও রুস্তম আলীর ছেলে সম্রাট আলী (২২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় কেদারনগর গ্রামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর চিত্র বদলে যায়। গ্রামের পশ্চিমপাড়া ক্যানেলের ব্রিজ, মসজিদের আশপাশসহ কয়েকটি স্থানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়ে। মোটরসাইকেল কিংবা অন্যান্য যানবাহনে করে তারা এসব এলাকায় এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে আবার চলে যান বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘সন্ধ্যার পর পশ্চিমপাড়া ক্যানেলের ব্রিজ ও মসজিদের আশপাশে বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক নিতে লোকজন আসে বলে আমরা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’ আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘মাদক বিক্রির কারণে গ্রামের তরুণরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সন্ধ্যার পর এলাকার পরিবেশও বদলে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো প্রয়োজন।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, ওই তিন যুবকের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগের কথা তিনিও শুনেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেদারনগর গ্রামে মাদক বিরোধী কার্যক্রম শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকা স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তিন যুবকের প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, কেদারনগরে ওই তিন যুবকের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, অভিযুক্ত রাজা আহাম্মেদ, সাজিম হোসেন ও সম্রাট আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
