গ্রেপ্তারের পরদিনই আসামির জামিন

মহেশপুরে বিএনপি কার্যালয় পোড়ানোর মামলায়

আপলোড তারিখঃ 2026-09-23 ইং
গ্রেপ্তারের পরদিনই আসামির জামিন ছবির ক্যাপশন:

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আওয়ামী লীগ কর্মী রুহুল আমীনকে গ্রেপ্তারের মাত্র এক দিনের মাথায় জামিন দিয়েছেন মহেশপুর চৌকি আদালত। গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।


জামিনপ্রাপ্ত রুহুল আমীন মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের হানিফপুর গ্রামের নেসার উদ্দীনের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে অংশগ্রহণ করেন। মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহেশপুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে মহেশপুর থানায় মামলা নম্বর-১৬ (জিআর মামলা নম্বর ৯৪/২৬) দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ৪৩৬ (অগ্নিসংযোগে ভবন বা ঘর ধ্বংস করা) ও ৪২৭ (ক্ষতিসাধন) ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।


মামলার প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই টিপু সুলতানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে রুহুল আমীনকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে মহেশপুর চৌকি আদালতে পাঠানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, গ্রেপ্তারের পরপরই স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতা আওয়ামী লীগ কর্মী রুহুল আমীনকে থানা থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।


এদিকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনায় মামলার বাদী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। মামলার বাদী ও যুবদল কর্মী হামিদুর ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিনই এভাবে জামিন পেয়ে যাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। আমার জানামতে মামলায় যেসব ধারা যুক্ত রয়েছে, তা জামিন অযোগ্য। এ ধরনের আসামিরা এত দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এলে নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে।’


মহেশপুরের হানিফপুর গ্রামের ইমান আলী, যিনি উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, রুহুল আমীন একজন সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। সে এক সময় বিএনপি করলেও ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ করেছে। ৫ আগস্টের পর আবার সে বিএনপিতে ভিড়ে যায়। ধরা যায় সে সুযোগ সন্ধানী লোক।


ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, ‘পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছিল। মামলায় যুক্ত করা ধারাগুলো পুলিশের বিবেচনায় জামিনযোগ্য নয়। তবে আসামিকে জামিন দেওয়া হবে কি না তা সম্পূর্ণ আদালতের বিচারাধীন বিষয় এবং বিচারকের এখতিয়ার।’


জেলার প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মশিয়ূর রহমান জানান, এ ধরণের মামলায় তো জামিন হওয়ার কথা নয়, যদি দিয়ে থাকেন, তবে সেটা নিতান্তই আদালতের এখতিয়ার। এদিকে, অভিযোগ উঠেছে দেশের সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার চৌকি আদালতকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা অনৈতিক কাজে যুক্ত হয়ে জামিন বাণিজ্য করে রাতারাতি লাখপতি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)