ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলার ছোট দুধপাতিলা গ্রামে হিন্দু পরিবারের ছেলে ও মুসলিম পরিবারের মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। সর্বশেষ সালিশে ওই পরিবারকে এক মাসের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সালিশের আগে হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে সাইফুল ও মহাবুল নামে দুই ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। এ নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট দুধপাতিলা গ্রামের শ্রী শুধো হালদারের ছেলে শ্রী উজ্জল হালদার এবং একই গ্রামের নস্কর আলীর মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারী মুসলিম পরিবারের এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। অন্যদিকে উজ্জল হালদারেরও আগের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক বছর আগে উজ্জল হালদার ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম গ্রহণের পর ওই নারীকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পরও তিনি তাঁর আগের হিন্দু স্ত্রীর সঙ্গে একইভাবে সংসার ও পারিবারিক যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে শুরু হয় নানা আলোচনা। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয় এবং দফায় দফায় সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে গ্রামের সাইফুল ও মহাবুল উজ্জল হালদারের পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেন। টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
এরই মধ্যে গত রোববার রাত ১২টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং হাউলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওবায়দুর রহমানসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
সালিশে উজ্জল হালদার ও তাঁর স্ত্রীকে নিজ নিজ ধর্মে ফিরে যাওয়ার জন্য বলা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে উজ্জলের পরিবারকে এক মাসের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সালিশে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাকের কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকে কোনো খোলা তালাকের ঘটনা দেখা যায়নি।
এ ঘটনায় হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং একটি পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দামুড়হুদা মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি মামুনউর রশিদ বলেন, শরিয়ত অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ধর্ম পরিবর্তন করলে আগের ধর্মীয় বিবাহের বিষয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টি আসে। তবে মুসলিমদের ক্ষেত্রে আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
হিন্দু ধর্মের পুরোহিত বাবু লাল বলেন, কোনো ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আবার হিন্দু ধর্মে ফিরতে চাইলে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়।
হাউলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওবায়দুর রহমান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ও মহাবুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পরিবারটিকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার আইনগত ভিত্তি কী, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
