ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের গহেরপুর গ্রামের আলী আকবর লিটনসহ ১০ জনের নামে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ মামলার প্রতিবাদে আন্দুলবাড়ীয়ার মৃত ছাবদার আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে মোক্তুরের বিরুদ্ধে সংবাদ বিবৃতি দিয়েছেন তার জামাই মহিদুল ইসলাম মাস্টার। গতকাল বুধবার বেলা ১০টার দিকে গহেরপুরের বিবদমান জমিতে তিনি বিবৃতি প্রদান করেন।
লিখিত বিবৃতিতে মহিদুল মাস্টার বলেণ, আমাদের নিজ নামীয় দালিলিক ও খাজনা-কৃত সম্পত্তি, যাহার আরএস দাগ নাম্বার ১১৫-১৬, মৌজা সুজায়েতপুর, জমির পরিমাণ ১ একর ২৫ শতক, যাতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বাকি জমি ২০ হাজার টাকা প্রতি বিঘা হিসেবে মূল্য দেবে মর্মে স্ট্যাম্প করা। এবং আরএস খতিয়ান ১৮৯ নং আমি বিগত ২৮/৫/২০২০ তারিখে আলী আকবর লিটনের পক্ষেÑঅর্থাৎ যিনি মামলার বর্তমান প্রধান আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছেÑতার পক্ষে আমি জামাতা হিসেবে সম্পত্তিটি সর্বপ্রথম জৈনক জামিরুল ইসলাম, বাটিকাডাঙ্গা, পিতা ওমর আলী এনার নামে হস্তান্তর করি। সেটা ছিল ২০২০ সালে। এই সম্পত্তি হস্তান্তর করার ২ বছর পরে সে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় এই সম্পত্তিটি সে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়। আমার নিজ নামের পাঁচ বিঘা সম্পত্তি এবং আমার শ্বশুরের এই সম্পদটা আমরা চাহিদা অনুপাতে অভিযুক্তের কাছে এই সম্পত্তিটা দিই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই যে, আমরা খুবই মর্মাহত যে ২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেখলাম বাগানে কিছু গাঁজা গাছ। তখন স্থানীয় তিতুদহ ক্যাম্পের আইসি ফকির ফেরদৌস উনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উদ্ধার করে। যেহেতু তার সাথে আমি কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হই নাই, আমি তাকে মৌখিকভাবে বাগানটা দিয়েছি। আমার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সে প্রতি বছর আমাকে দেবে।
আরও বলেন, কিন্তু গাঁজার বিষয় নিয়ে আমাকে দোষী বানানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ওই মামলায় সে জেল খাটে। ওর কাছে আমার ২০ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। সে ৩/৪ বছর টাকা দেয় না। উপরন্তু প্রশাসনের কিছু কতিপয় দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের সাথে আতাঁত করে আমাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেয়Ñশুধু একটা না, আরও দুইটা মামলা ৪৭ ধারা সহ আরও একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোটামুটি সাধারণ কৃষকদের নিয়ে আমরা ১১ জন আসামি।
এখন আদালতে মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে হচ্ছে। যেটা খুবই দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয়। দর্শনার মামলার পর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন হিজলগাড়ি ক্যাম্পের এসআই জাহাঙ্গীর আলমের উপর। তিতুদহ ক্যাম্পের হুমায়ূন কবির তার সাথে যোগসাজশে সহায়ক ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে এবং তদন্ত সাপেক্ষে উকিল ওখানে যে কয়টা ধারা অব্যাহত রাখে, প্রত্যেকটা ধারা ওই আইসি সাহেব ওখানে বলবৎ রেখে চুরি-ছিনতাইকারী এবং এই বাগান উচ্ছেদকারী এইরকম ন্যক্কারজনক ধারা-১১৪/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/৪০৬/৪২০/৩৮৫/৩৮৭/৪২৭/৫০৬(২) পেনাল দেয়। যেটা খুবই দুঃখজনক। আমরা চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার, ডিআইজি, আইজি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত জানতে চাই কেন আমাদের মিথ্যা মামলা হলো। পুলিশ তো জনগণের বন্ধু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জনগণের বন্ধু না হয়ে কেন তারা এইভাবে আমাদের সাধারণ কৃষকদের উপরে এই ধরনের আচরণ করেছে। এর আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের মুখ থেকে শুনেছি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলকারী নাকি টাকার দাবি করেছে। যাদের কাছে টাকার দাবি করেছে এখানে আছেন। আমরা আশা করেছিলাম যে উনি সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আমাদের একটা হয়তো প্রতিবেদন দাখিল করবেন। কিন্তু আমরা খুবই দুঃখিত, একজন প্রশাসনের মানুষ হিসেবে এই ধরনের মিথ্যাচার, এই ধরনের আমাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আমাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। এটা আমরা খুবই মর্মাহত, এর সুষ্ঠু বিচার চাই। এরকম মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন মামলা থেকে রক্ষা চাই এবং যারা এই মিথ্যা মামলার ইন্ধনদাতা তাদের শাস্তি দাবি করছি। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয়, অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মুক্ত ইসলামি ব্যাংকের চেক জালিয়াতিসহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তার দ্বারা সাধারণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে তারা মামলা করেছে। তারা নিরীহ মানুষ, তাদেরকে হয়রানি থেকে মুক্তি চাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
