ছবির ক্যাপশন:
নির্দিষ্ট সময়ের লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড়েনি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে ১-১ গোলের সমতায়। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয়েছে টাইব্রেকারের। আর সেখানেই দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে নায়ক হয়ে উঠলেন দামুড়হুদা উপজেলা দলের গোলরক্ষক সাইমুন হাসান। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে টাইব্রেকারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা দলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে দামুড়হুদা উপজেলা।
গতকাল বুধবার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চতুর্থ দিনের ম্যাচে মুখোমুখি হয় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও দামুড়হুদা উপজেলা দল। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তাপ ছড়ায় মাঠে। গ্যালারিতে থাকা বিপুলসংখ্যক দর্শকের উচ্ছ্বাসে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। দুই দলই গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে কেউই প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়েই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা।
এরপর শুরু হয় টাইব্রেকারের লড়াই। সেখানেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন দামুড়হুদার গোলরক্ষক সাইমুন হাসান। তাঁর দৃঢ়তায় সদর উপজেলা দলের শটগুলো আটকে যায়। অন্যদিকে দামুড়হুদার খেলোয়াড়েরা সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নেন। ফলে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দামুড়হুদা উপজেলা দল।
দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান দামুড়হুদার গোলরক্ষক সাইমুন হাসান। ম্যাচ শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা দলের ইব্রাহিমকেও পুরস্কৃত করা হয়।
ম্যাচটি দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক উজ জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, এনডিসি আলাউদ্দিন আল আজাদ, দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ হায়দার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এএসএম আব্দুর রউফ শিবলু, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব বিপুল হাসান হ্যাজি, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া সাবেক ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন, সরোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধু, রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজা, নাজমুল হক শান্তি, সাবেক কৃতী গোলরক্ষক রবিউল মল্লিক, আইয়ুব হোসেন, শহিদুল কদর জোয়ার্দ্দার, টিপু সুলতান, স্পোর্টিং ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আশাবুল হক এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব ইমরান মহলদার রিন্টুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম সেমিফাইনালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও জীবননগর পৌরসভা এবং ২০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও দামুড়হুদা উপজেলা দল মুখোমুখি হবে। চতুর্থ দিনের ম্যাচটি পরিচালনা করেন শফিকুল নবী রিয়ান, জুয়েল রানা, লিটা হোসেন ও হাফিজুর রহমান। ম্যাচ কমিশনার ছিলেন সাবেক ফুটবলার আইয়ুব হোসেন। ধারাবিবরণী প্রচার করেন ইসলাম রকিব ও শামীম আহমেদ খান।
