ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের মালিথাপাড়ায় দিনের আলোয় মোটরসাইকেলে এসে এক ভ্যানচালকের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন পাখিভ্যান চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র কয়েক মিনিটের এ ঘটনায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন ভ্যানচালক আসাদুল হক ও তার পরিবার। চুরি যাওয়া ভ্যানটি ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। সেটি হারিয়ে এখন প্রতিবন্ধী সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।
ভুক্তভোগী আসাদুল হক ওই এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি জানান, গত রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে এসে তার ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির কোনো সন্ধান পাননি তিনি।
আসাদুল হক বলেন, "সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যে টাকা আয় করি, তা দিয়েই আমার সংসার চলে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এক ছেলে প্রতিবন্ধী, তার নাম জীবন। ভ্যানটিই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন। সেটিও চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন আমরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। গতকাল থেকে আমাদের চুলায় আগুন জ্বলেনি। পরিবারের সদস্যরা এখন পর্যন্ত না খেয়ে রয়েছে।"
তিনি জানান, ভ্যান চালিয়ে প্রতিদিন যে আয় হতো, তা দিয়েই কোনোভাবে পরিবারের খাবার, সংসারের খরচ এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতেন। উপার্জনের প্রধান উপকরণ হারিয়ে এখন তার পরিবার কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালের দিকে 'পজেটিভ আলমডাঙ্গা' নামে একটি সংগঠন অসহায় আসাদুল হককে ভ্যানটি দান করে। সেই ভ্যান চালিয়েই তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সেই একমাত্র অবলম্বনটিও চুরি হয়ে যাওয়ায় ফের চরম সংকটে পড়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, দিনদুপুরে মানুষের চলাচলের মধ্যে মোটরসাইকেলে এসে এভাবে ভ্যান চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দিনের বেলায় এমন দুঃসাহসিক চুরি হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
